
মারধর ও গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বাদীপক্ষের
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ-
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তদের জামিন না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাদীপক্ষ। তাদের অভিযোগ, আসামিরা জামিনে মুক্ত হলে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, যৌতুকের দাবিতে মারপিট করিয়া গুরুতর জখম ও জোরপূর্ব গর্ভপাত এর অভিযোগ এনে, আগৈলঝাড়া উপজেলার বড় বাশাইল গ্রামের মোছা. সুপ্তি আক্তার (২৫) বাদী হয়ে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি এমপি ও নারী-শিশু মামলা নং ৩৬৮/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার গ্রামের, ১/ শাহাদাত ফকির (২৭) পিতা- মনিরুজ্জামান ফকির, ২/ কামরুল ফকির (৫০), ৩/ মনিরুজ্জামান ফকির (৪৫) পিতা- মোখলেস ফকির, ৪/ শাহারুল (৩০) পিতা মনিরুজ্জামান ফকির, ৫/ বিলকিস (৪৩) স্বামী মনিরুজ্জামান ফকিরসহ আসামি করা হয়েছে।এরা মামলার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারার কথা উল্লেখ রয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, যৌতুকের দাবি করে আসামিরা তাকে মারধর করে গুরুতরভাবে আহত করেন। এ ঘটনায় তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামিদের জামিন দেওয়া হলে তারা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন। এ কারণে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের জামিন না দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে বাদীপক্ষ ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত রবিবার (২৩-আগষ্ট) মামলার আসামীরা বরিশালের বিজ্ঞ আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আগাম জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত শাহাদাত ফকিরের বেল ক্যানসেল করে বাকি আসামী কামরুল ফকির, মনিরুজ্জামান ফকির, শাহারুল, বিলকিসসহ আসামীদের জামিন মঞ্জুর করেন।
বাদী অভিযোগ করে বলেন মামলার আসামি কামরুল ফকির জামিনে এসে বাদী সুপ্তি আক্তারকে মামলা নিষ্পতি করার জন্য বিভিন্ন রকম ভয়-ভীতি প্রাননাসের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে, এতে করে বাদী সুপ্তি জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, এবং মামলার (১নং) আসামি শাহাদাত ফকিরের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগের সঠিক বিচার না হওয়া পর্যন্ত যেন বিজ্ঞ আদালত শাহাদাত ফকিরের জামিন মঞ্জুর না করার দাবি জানান।
তবে মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আসামিদের বক্তব্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করতে হবে।