1. admin@protidinercrime.com : admin :
  2. protidinercrime@gmail.com : প্রতিদিনের ক্রাইম ডেস্ক : প্রতিদিনের ক্রাইম ডেস্ক
আগৈলঝাড়ার কৃতি সন্তান মুকুল কুমার বাড়ৈ - Protidiner Crime - প্রতিদিনের ক্রাইম
[english_date]| [bangla_date]| [bangla_season]| [bangla_day]| [bangla_time]|
সংবাদ শিরোনামঃ
কালিয়ায় পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন ডাসারের বালিগ্রামে চার মৌজার ঐক্য: চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কামাল উদ্দিন আহাদ মোল্লার নাম ঘোষণা তানোরে ওয়াল্ড ভিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপনী অনুষ্ঠান’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কালিয়ায় পূবালী ব্যাংকের দুই দিনব্যাপী ক্যাশলেস লেনদেন ও QR কোড সচেতনতা কার্যক্রম মাদারীপুরে সর্বজনীন পেনশন মেলা অনুষ্ঠিত গৌরনদীতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতবিনিময় দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিকের মালিকের বিরুদ্ধে নার্সকে মারধরের অভিযোগ খুলনার তেরখাদায় হাড়িখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সংবর্ধনা ও মতবিনিময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিলেন জহির উদ্দিন স্বপন আগৈলঝাড়ার কৃতি সন্তান মুকুল কুমার বাড়ৈ

আগৈলঝাড়ার কৃতি সন্তান মুকুল কুমার বাড়ৈ

প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

গ্রামবাংলা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষক—শিল্পসাধনায় এক আলোকিত পথচলা

 

প্রতিদিনের ক্রাইম নিউজ ডেস্ক, বরিশাল গৌরনদী।

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বারপাইকা গ্রামের সন্তান ভাস্কর মুকুল কুমার বাড়ৈ। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে শিক্ষা, শিল্প ও সৃজনশীলতার জগতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। দীর্ঘ শিল্পজীবনে ভাস্কর্য নির্মাণ, শিক্ষকতা, গবেষণা ও শিল্পচর্চার মাধ্যমে বাংলাদেশের সমকালীন শিল্পাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মুকুল কুমার বাড়ৈ ২০০৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।

শিক্ষাবান্ধব পরিবারে বেড়ে ওঠা

মুকুল কুমার বাড়ৈর জন্ম আগৈলঝাড়া উপজেলার বারপাইকা গ্রামে। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে বেড়ে ওঠা তাঁর জীবনে পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর বাবা ছিলেন বারপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং আগৈলঝাড়া বিএইচপি একাডেমির প্রধান শিক্ষক। শিক্ষার বিস্তারে বাবার ভূমিকা যেমন এলাকায় প্রশংসিত ছিল, তেমনি সন্তানদের জীবন গঠনেও তাঁর আদর্শের প্রভাব ছিল গভীর।

তাঁর মা ছিলেন গৃহিণী। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত। ফলে শৈশব থেকেই শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার অনুকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠেন মুকুল।

আগৈলঝাড়ায় শিক্ষার হাতেখড়ি

মুকুল কুমার বাড়ৈ তাঁর মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন আগৈলঝাড়া বিএইচপি একাডেমি থেকে। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান ঢাকায়।

১৯৯৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ভাস্কর্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরে ভারতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব আর্ট থেকে ১৯৯৮ সালে ভাস্কর্যে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টাডিজ ইনস্টিটিউট থেকে ২০০৫ সালে PhD Course Work সম্পন্ন করেন।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও শিল্পী হিসেবে বিকাশ

শিল্পীজীবনের শুরুতেই মুকুল কুমার বাড়ৈ অর্জন করেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। ১৯৯৬ সালে তিনি Indian Council for Cultural Relations (ICCR) Scholarship for Foreign Nationals লাভ করেন।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব আর্টে ভাস্কর্যে উচ্চশিক্ষার সময় তিনি Dhanaraj Bhagat Award-এর Certificate of Merit অর্জন করেন। এর আগে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের ২য় Tone Miniature National Art Competition-এ Honorable Mention লাভ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা

শিল্পচর্চার পাশাপাশি শিক্ষকতাকেও পেশা হিসেবে বেছে নেন মুকুল কুমার বাড়ৈ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগে দীর্ঘ শিক্ষকতা তাঁকে যেমন শিল্পী হিসেবে সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের গড়ে তোলার সুযোগ দিয়েছে।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন তাঁর পেশাগত জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

ভাস্কর্যচর্চায় নিজস্ব ভাষা

মুকুল কুমার বাড়ৈর শিল্পকর্মে মানবজীবন, প্রাণশক্তি, অস্তিত্ব, প্রকৃতি ও মানুষের অন্তর্গত অনুভূতির নানা দিক ফুটে ওঠে। বিশেষ করে ব্রোঞ্জ ভাস্কর্যে তাঁর কাজ উল্লেখযোগ্য। ত্রিমাত্রিক ভাস্কর্যের পাশাপাশি রিলিফ ভাস্কর্যেও তিনি কাজ করেছেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে ‘Vitality’, ‘Vitality-1’, ‘Mystery of the Life of a Useful Fungus’ এবং ‘Inside the Round’। তাঁর শিল্পকর্ম দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রদর্শনীতেও স্থান পেয়েছে।

দেশ-বিদেশে শিল্পকর্ম প্রদর্শন

১৯৯৮ সালে ভারতের নয়াদিল্লির National Lalit Kala Academy, Rabindra Bhavan-এ তাঁর একক ভাস্কর্য ও ড্রইং প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জাতীয় শিল্প ও ভাস্কর্য প্রদর্শনীতেও তাঁর শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে। ‘Vitality’ ২০১৪ সালের National Sculpture Exhibition এবং ২০১৫ সালের ২১তম National Art Exhibition-এ প্রদর্শিত হয়। ‘Mystery of the Life of a Useful Fungus’ স্থান পায় ২০১৭ সালের ২২তম National Art Exhibition-এ। এছাড়া ‘Vitality-1’ ২০১৮ সালের ১৮তম Asian Art Biennale Bangladesh-এ প্রদর্শিত হয়।

ভাস্কর্যের পাশাপাশি চিত্রকলাতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। ‘Face-1’, ‘Face-2’ ও ‘Face-3’সহ তাঁর বিভিন্ন চিত্রকর্মও প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে।

শিল্প নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি

মুকুল কুমার বাড়ৈর কাছে ভাস্কর্য কেবল সৌন্দর্য প্রকাশের মাধ্যম নয়; ইতিহাস, সমাজ ও মানুষের চেতনার সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভাস্কর্য প্রসঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা, মুক্তচিন্তা এবং দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ভাস্কর্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ও আলোচনার মধ্যেও তিনি শিল্পের উদ্দেশ্য, প্রেক্ষাপট এবং সামাজিক তাৎপর্য নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।

শিল্পশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগ দেশের ভাস্কর্য শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই বিভাগের শিক্ষক হিসেবে মুকুল কুমার বাড়ৈ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের ভাস্কর্য নির্মাণ, শিল্পভাবনা ও সমকালীন শিল্পচর্চার সঙ্গে পরিচিত করে আসছেন।

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনেও তাঁকে ভাস্কর্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বারপাইকার গর্ব

বারপাইকা গ্রামের মাটি থেকে উঠে এসে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া মুকুল কুমার বাড়ৈর পথচলা নিঃসন্দেহে আগৈলঝাড়ার মানুষের জন্য গর্বের।

একজন শিক্ষাবিদ পিতার সন্তান হিসেবে শিক্ষার পরিবেশে বেড়ে ওঠা, আগৈলঝাড়া বিএইচপি একাডেমিতে শিক্ষাজীবনের সূচনা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স, আন্তর্জাতিক বৃত্তি ও পুরস্কার অর্জন এবং দেশ-বিদেশে শিল্পকর্ম প্রদর্শন—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন যেন অধ্যবসায়, মেধা ও সৃজনশীলতার এক অনন্য গল্প।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

মুকুল কুমার বাড়ৈর উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে—

ICCR Scholarship for Foreign Nationals, ভারত — ১৯৯৬
Dhanaraj Bhagat Award—Certificate of Merit, ভারত — ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষ
Honorable Mention, ২য় Tone Miniature National Art Competition, বাংলাদেশ — ১৯৯৪
শিকড় থেকে শিখরে

মুকুল কুমার বাড়ৈ আজ বাংলাদেশের ভাস্কর্যশিল্প ও শিল্পশিক্ষার অঙ্গনে একটি পরিচিত নাম। তবে তাঁর সাফল্যের শিকড় প্রোথিত রয়েছে আগৈলঝাড়ার বারপাইকা গ্রামের মাটিতে।

গ্রামের শিক্ষাবান্ধব পরিবার থেকে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা, আন্তর্জাতিক বৃত্তি ও পুরস্কার, দেশ-বিদেশের শিল্পপ্রদর্শনী এবং শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে প্রতিষ্ঠা—মুকুল কুমার বাড়ৈর এই পথচলা শুধু একজন শিল্পীর সাফল্যের গল্প নয়; এটি একটি গ্রামের শিক্ষাবান্ধব পরিবারের স্বপ্ন, সাধনা ও অর্জনেরও গল্প।

মুকুল কুমার বাড়ৈ তাই শুধু একজন সফল ভাস্কর নন—তিনি বারপাইকার শিক্ষিত সমাজের উত্তরাধিকার বহনকারী এবং আগৈলঝাড়ার মেধা, মনন ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল প্রতিনিধি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved ©2024 protidinercrime.com