
মোঃ সোহেল রানা রাজশাহীঃ-
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় সরকারি সার অনিয়ম করে সরিয়ে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সার বের করতে বাধা দিতে গিয়ে এক কৃষক আহত হয়েছেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীনভাবে সার মজুদ করার দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিককে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
উপজেলার ধোপাঘাটা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগের সূত্র জানায়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) অনুমোদিত বীজ ও সার ডিলার মেসার্স অদ্বিতী এন্টারপ্রাইজ-এর মালিক মো. আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি ডিএপি ও পটাশ সার দোকান থেকে সরিয়ে অন্যত্র মজুদ করার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ৬৫ বস্তা সার তাঁর ভাতিজা ও কীটনাশক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম তুহিনের দোকানে নেওয়া হয়।
অভিযোগের পর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মতিন ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার প্রতিষ্ঠানে সরবরাহের তুলনায় সারের ঘাটতি দেখতে পান। একই সঙ্গে কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক জব্দ করে মাটিতে পুঁতে রাখার পর দোকানিকে সতর্ক করেন। এ সময় স্থানীয় কৃষকেরা অভিযোগ করা সার উদ্ধার এবং জব্দের দাবি জানান। তবে তুহিনের দোকান তালাবদ্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সার উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কয়েকজন কৃষককে দোকানটি নজরদারিতে রাখার দায়িত্ব দিয়ে চলে যান। পরে জাহাঙ্গীর আলম তুহিন দোকান থেকে সার বের করার চেষ্টা করলে কৃষকেরা বাধা দেন। এ সময় কৃষক সরফরাজ শাহকে মোটরসাইকেল দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া এবং মারধরের অভিযোগ ওঠে। এতে তিনি আহত হন। সরফরাজ শাহ ধোপাঘাটা গ্রামের মৃত আনিসুর রহমান শাহের ছেলে।
ঘটনার খবর পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মতিনের প্রসিকিউশনে পরিচালিত ওই অভিযানে অনুমোদনহীনভাবে সার মজুদ করার দায়ে মেসার্স তুহিন ট্রেডার্স-কে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের সময় অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শুভ ভৌমিক, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মকবুল আহম্মেদ, এসএপিপিও মোস্তফা কামাল এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কামারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, সরকারি সার ডিলার আলাউদ্দিন কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ না করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন। তাদের দাবি, কৃষি অফিসে সার বিক্রির ভুয়া তালিকা দেখিয়ে সার বিক্রি শেষ হয়েছে বলে দেখানো হয় এবং পরে ওই সার অধিক দামে অন্যত্র বিক্রি করা হয়।
তুহিন সম্পর্কে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার দোকানে আসল কীটনাশকের পাশাপাশি নকল কীটনাশকও বিক্রি করে আসছেন। তাদের ভাষ্য, এলাকায় তিনি নকল কীটনাশক বিক্রেতা হিসেবেই পরিচিত। এছাড়া, স্থানীয়দের দাবি, তিনি অত্যন্ত কৌশলী স্বভাবের ব্যক্তি।
এবিষয়ে অভিযুক্ত আলাউদ্দিন বলেন সারগুলি তিনি অন্য ডিলারের কাছ থেকে কিনে এনেছেন এবং তার ভাতিজার দোকানে মজুদ করেছেন।
এবিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম তুহিন বলেন, রাগান্বিত জাহাঙ্গীর আলম তুহিন বলেন, “যা শোনার দরকার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে যারা গিয়েছিলেন, তাদের জিজ্ঞেস করুন। এখন কথা বলার সময় নেই।”