
স্টাফ রিপোর্টঃ-
ছাত্রলীগ ও যুবলীগ রাজনীতির পথ ধরে ৩০ বছর যাবৎ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ও নিবেদিত মাহমুদুল ইসলাম (সাগর) সেরনিয়াবাত, এবং কামরুজ্জামান সেরনিয়াবাত আজাদ। এরা বর্তমান আওয়ামী দুঃসময়ের বরিশাল জেলা যুবলীগের জনপ্রিয় দুজন নেতা। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রোষানলে পড়ে মিথ্যা মামলায় এলাকাছাড়া সাগর সেরনিয়াবাত এবং আজাদ সেরনিয়াবাত।
গত বুধবার (৯-জুলাই) বরিশালের আগৈলঝাড়া সদর বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের সিদ্দিক ফকিরের ছেলে রিয়াজ ফকিরের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক করে আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ।
মাদক ও চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে আটক ও পুলিশের নির্যাতনে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে আগৈলঝাড়া থানা ও পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায় রিয়াজ ফকিরের আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকাবাসী।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর দ্বন্দ্বের জেরে বরিশাল জেলা যুবলীগের সদস্য সেরনিয়াবাত মাহমুদুল ইসলাম (সাগর), এবং আগৈলঝাড়া উপজেলা যুবলীগ সভাপতি সেরনিয়াবাত কামরুজ্জামান আজাদকে জড়িয়ে একটি মামলা হয়। জিডি নং ৩৮৩/ ৪৩-জন আসামীর নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞাত ২০০-৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ভিডিও ফুটেজ ও আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খানের গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঘটনার বিবরণ এবং ভিডিও ফুটেজে প্রমাণ না থাকার সত্ত্বেও সাগর সেরনিয়াবাত এবং আজাদ সেরনিয়াবাত ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা না থাকলেও একটি মহল তাদের হেয়প্রতিপন্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ঐদিনই আগৈলঝাড়া থানায় দুইজন সাংবাদিকসহ, যুবলীগ নেতা সাগর সেরনিয়াবাত এবং আজাদ সেরনিয়াবাত এর বিরুদ্ধে কোন সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ ছাড়া আসামি করা হয়।যার জিডি নং ৩৮৩/ এজাহারে ৪৩-জন আসামীর নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২০০-৩০০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন এসআই মো. ওমর ফারুক।
যুবলীগ নেতা সাগর সেরনিয়াবাত ও আজাদ সেরনিয়াবাত, এবং আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের দুই সাংবাদিক এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত ও হয়রানিমূলক এ মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করে তীব্র নিন্দা ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হয়রানিমূলক এ মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আহবান জানান আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব।
এ ঘটনায় পুলিশ আগৈলঝাড়া থানায় ভাঙচুর পুলিশের উপর হামলা অভিযোগের পুলিশের করা এ মামলায় গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন স্পট থেকে এযাবৎ ২৭ জন আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতার আতঙ্কে বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী এলাকা বর্তমানে পুরুষশূন্য হয়ে রয়েছে।
ঘটনা সম্পর্কে বরিশাল জেলা যুবলীগ সদস্য সাগর সেরনিয়াবাত বলেন, চুরি ও মাদক মামলার আসামীকে আটক এবং মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানা পুলিশের উপর হামলা ও ভাঙচুর করে ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখেছি দিনের আলোর মতো পরিস্কার সেই সাথে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। কিন্তু ঘটনাচক্রে আমি ও আজাদ ভাইসহ আগৈলঝাড়ায় প্রেসক্লাবের দুজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যে মামলা দেয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। আমি দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা ছাত্রলীগ থেকে উঠে এসে যুবলীগের জনপ্রিয় নেতা হয়েছি। সাংগঠনিকভাবে আমরা দক্ষ রাজনৈতিক কর্মি।এই মিথ্যা মামলা থেকে আমাদের মুক্তির আহ্বান জানাচ্ছি।
আজাদ সেরনিয়াবাত বলেন, ঐদিন চুরি ও মাদক মামলার আসামী রিয়াজ ফকিরের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী থানা পুলিশের উপর হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রমান থাকার পরও আমি ও সাগর এবং সাংবাদিকসহ আমাদের নামে যে মামলা দেয়া হয়েছে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি মূলক এই ঘটনায় শুধু বরিশাল জেলা নয় পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও আলোচনা সমালোচনা ঝড় চলছে। বিএনপি ও প্রশাসনের আক্রোশে রাজনৈতিক ঘায়েল করতে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কতটা ষড়যন্ত্রের দানা বাঁধতে পারে এ ঘটনায় তা প্রতিয়মান বলে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা চলছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আমাদেরকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।