
মোঃ হেমায়েত হোসেন খান, নিউজ ডেস্ক মাদারীপুরঃ-
মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য দুই প্রার্থীর সমর্থকদের বিরোধ ও সহিংসতার উদ্দেশ্য করে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইতালি প্রবাসী আব্দুল রাজ্জাক মোল্লার পিতার পরিত্যক্ত ঘরে গোপনে বোমা তৈরির সময় এই আকস্মিক বিস্ফোরণে অন্তত ৫ থেকে ৬ জন আহত হয়েছেন।
গত কয়েক দিন আগে সম্ভাব্য দুই প্রার্থীর নির্বাচনী বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে, এতে ইতালি প্রবাসী যুবদল নেতা আব্দুল রাজ্জাক মোল্লার দুই কর্মী আহত হয়।এঘটনায় জাকির মোল্লার লোকজনকে আসামি করে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় একটি মামলা করা দায়ের হয়।
সংঘাতের খবর পেয়ে ইতালি প্রবাসী আব্দুল রাজ্জাক মোল্লা দেশে ফিরে আসেন।
উভয় পক্ষের সংঘাতের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসার দিন ধার্য থাকলেও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও নতুন করে সংঘাত তৈরির উদ্দেশ্যে রাজ্জাক মোল্লার নেতৃত্বে তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার পরিত্যক্ত ঘরে বোমা তৈরি করা হচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে বোমা তৈরির একপর্যায়ে আকস্মিক একের পর এক বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে থাকা আহত ব্যক্তিরা দ্রুত পালিয়ে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য যুবদল নেতা রাজ্জাক মোল্লা কারিগর সিদ্দিক, আহাদ গাজী, নয়ন গাজী ও রাব্বি আকনকে দিয়ে এই বোমা তৈরি করাচ্ছিলেন।
বিস্ফোরিত বোমার আঘাতে আহতদের মধ্যে যাঁদের পরিচয় পাওয়া গেছে তাঁরা হলেন:পেয়ারপুর এলাকার মফেজ গাজীর ছেলে নয়ন গাজী,ইউনুস গাজীর ছেলে আহাদ গাজী,চাঁন্দের বাজার এলাকার থেকে ভাড়ায় আসা সিদ্দিক মিয়া।
বিস্ফোরণের পর আহতদের গোপনে কোন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় বোমা তৈরির অভিযোগে পেয়ারপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মফেজ গাজীর ছেলে এবং আহত নয়ন গাজীর ভাই সালাউদ্দিন গাজীকে আটক করে পুলিশ।
এঘটনার বিষয়ে রাজ্জাক মোল্লা মোবাইল ফোনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “আমার বাবা হান্নান মোল্লার ঘরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই বোমা আমি তৈরি করিনি এবং ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”
মাদারীপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, সালিশ-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ার পরও যারা এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।