1. admin@protidinercrime.com : admin :
  2. protidinercrime@gmail.com : প্রতিদিনের ক্রাইম ডেস্ক : প্রতিদিনের ক্রাইম ডেস্ক
হাতের স্পর্শেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং আগৈলঝাড়ায় সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে যাচ্ছে এলজিইডি - Protidiner Crime - প্রতিদিনের ক্রাইম
[english_date]| [bangla_date]| [bangla_season]| [bangla_day]| [bangla_time]|
সংবাদ শিরোনামঃ
মাদকবিরোধী অভিযান, তিনশত ইয়াবা নিয়ে পুলিশের জালে মাদক কারবারি, আটক সহযোগীও” রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি’র অভিযান, ভারতীয় যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট এবং চোরাচালানী মালামাল জব্দ মাদক ও আধিপত্যের দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত নলছিটি, সংঘর্ষের পর বসতঘরে আগুন—প্রাণ গেল একজনের! গৌরনদীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১০২ পিস ইয়াবাসহ একাধিক মামলার আসামি ফারুক উকিল গ্রেফতার গৌরনদী পৌরসভায় ৩ মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান‘লোক দেখানো নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানই লক্ষ্য’—পৌর প্রশাসক মোঃ ইব্রাহীম ভাউলাগঞ্জ হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়, ইজারাদারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা তেরখাদায় বাংলা QR সম্প্রচার বিষয়ক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিপুল পরিমান ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ কলমেই স্বপ্ন, মানুষের সেবায় পথচলা”—কবি ও সাংবাদিক আকাশ উজ্জামান শেখের জন্মদিন আজ গাঁজা-ইয়াবার বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়ায় পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ৬

হাতের স্পর্শেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং আগৈলঝাড়ায় সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে যাচ্ছে এলজিইডি

প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ১৮৮ বার পড়া হয়েছে

 

পলাশ তালুকদার, গৌরনদী বরিশাল প্রতিনিধিঃ-

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়কের সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় হাতের স্পর্শেই সড়কের কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, প্রকৌশলগত নিয়ম অনুসরণে গাফিলতি এবং বৃষ্টির পর কার্পেটিং করার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয় বাসিন্দা ও এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, আগৈলঝাড়া উপজেলার মাহিলাড়া-আম্বুলা-ছয়গ্রাম-পয়সারহাট সড়কের বাগধা ইউনিয়নের তালবাড়ি এলাকায় ৫৪০ মিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২০২৫ সালের অক্টোবরে ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রের মাধ্যমে বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ এলাকার মেসার্স সরদার ট্রেডিং কাজটি পায় এবং একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর কার্যাদেশ গ্রহণ করে।

অভিযোগ রয়েছে, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি স্থানীয়ভাবে অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করে। পরে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুসরণ না করেই সড়কের কার্পেটিং সম্পন্ন করেন। স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টির পরপরই কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয়। এ সময় এলাকাবাসী আপত্তি জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও হাত দিয়ে টান দিলেই পিচ ও পাথরের আস্তরণ উঠে আসছে। এতে সংস্কারকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্পেটিংয়ের আগে রাস্তা যথাযথভাবে পরিষ্কার করা হয়নি; কোথাও কোথাও ধুলাবালি ও ময়লার ওপরই কার্পেটিং করা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় কম বিটুমিন ব্যবহারের কারণেও সড়কের স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, জনগণের করের টাকায় উন্নয়নকাজ হলেও তদারকির অভাব ও দায়িত্বহীনতার কারণে বারবার নিম্নমানের কাজের ভুক্তভোগী হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ওই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী ভ্যানচালক আহসান ইসলাম বলেন, “সরকার উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি ও দায়িত্বহীন কর্মকর্তার কারণে সেই উন্নয়নের সুফল মানুষ পাচ্ছে না। কাজ সঠিকভাবে হলে কয়েক দিনের মধ্যেই রাস্তার কার্পেটিং উঠে যেত না।”

কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জাকির মোল্লা বলেন, “বৃষ্টির সময় এক গাড়ি মালামাল আনা হয়েছিল। তখন আমি কাজ না করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ চালিয়ে যেতে বলেন। তাদের নির্দেশেই কাজ শেষ করা হয়েছে। এখন সমস্যা দেখা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমি কাজ শুরু করিয়ে সেখান থেকে চলে এসেছি। পরে কী হয়েছে তা আমার জানা নেই। যেখানে কার্পেটিং উঠে গেছে, সেখানে পুনরায় কাজ করে সমস্যার কারণ খতিয়ে দেখা হবে।”

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, “কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে বরিশাল এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনে আসবেন। এখন পর্যন্ত কাজের কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং ত্রুটি সংশোধন না হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিম্নমানের কাজ অপসারণ করে নতুন করে মানসম্মত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে হবে। তাদের মতে, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকির কোনো বিকল্প নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved ©2024 protidinercrime.com