
নাসির উদ্দিন লিটন,স্টাফ রিপোর্টারঃ-
মাদারীপুর সদর জেলাধীন পেয়ায়পুর ইউনিয়নে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণ, আহত ৬ হঠাৎ বিকট শব্দ। মুহূর্তেই কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন আশেপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে স্থানীয়রা দেখতে পায়, একটি পরিত্যক্ত বাড়ির টিনের চালের অংশ উড়ে গেছে। এলাকাবাসী জানতে পারেন, ওই বাড়িতে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সালাউদ্দিন গাজী নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতালি প্রবাসী ও স্থানীয় যুবদল নেতা রাজ্জাক মোল্লার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে গোপনে বোমা তৈরির কাজ চলছিল। বোমা তৈরির একপর্যায়ে হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে, আশপাশের এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একই সাথে বাড়িটির টিনের চালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের সময় বাড়িটিতে কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সিদ্দিক, আহাদ গাজী, নয়ন গাজী ও রাব্বী আকনের নাম জানা গেছে। অপর দুই আহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, আহতদের কয়েকজনকে ‘বোমা তৈরির কারিগর’ হিসেবে এলাকায় পরিচিত করা হয়। বিস্ফোরণের পর আহত ব্যক্তিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। ফলে তাদের কে কোথায় চিকিৎসা নিয়েছেন বা বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা কী—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে মাদারীপুরের থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সালাউদ্দিন গাজী নামে একজনকে আটক করা হয়। তিনি একই এলাকার মফিজ গাজীর ছেলে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
এদিকে পরিত্যক্ত বাড়িতে বোমা তৈরির অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, কোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে এসব বিস্ফোরক তৈরি করা হয়ে থাকলে ভবিষ্যতে আরও সহিংস ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের সাথে বিরোধের জের ধরে বাইরে থেকে হায়ার করে বোমা তৈরির কারিগর এনে ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে বোমা তৈরির কাজ করা হচ্ছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে রাজ্জাক মোল্লার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মাদারীপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ব্যাপারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।