
মোঃ সোহেল রানা রাজশাহীঃ-
রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার রামচন্দ্রপুর এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের কাজে বাধা, পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বুলবুল নামের এক ব্যক্তি।
বুলবুলের অভিযোগ, রামচন্দ্রপুর এলাকার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর মা মনোয়ারা বেগমের সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা দুই ভাই ভোগদখল করে আসছেন। ওই সম্পত্তিতে তাঁরা একটি দুইতলা ভবন নির্মাণ করছেন। ভবনের প্রায় ৯০ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তবে নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে তাঁদের খালাতো ভাই-বোন আনিসুর, রেজা, অনিক, সাব্বির, বিউটি, রহিমা ও রুমাসহ কয়েকজন ওই সম্পত্তিতে দাবি তুলে নির্মাণকাজে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
বুলবুল বলেন, নির্মাণকাজ শুরুর সময় কোনো আপত্তি না থাকলেও ভবনের দ্বিতীয় তলার কাজ শুরু হওয়ার পর আনিসুরসহ কয়েকজন তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে তাঁর মা মনোয়ারা বেগম গত ৯ অক্টোবর ২০২৫ বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির নম্বর ৬০১।
বুলবুলের দাবি, ওই ঘটনার পর তাঁকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রও সংরক্ষণ করেছেন বলে জানান তিনি। পরে তাঁর স্ত্রী তসলিমা ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ বোয়ালিয়া থানায় আরেকটি জিডি করেন, যার নম্বর ১৮৫১। এরপর বুলবুল নিজেও ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থানায় জিডি করেন। ওই জিডির নম্বর ১০৯৭।
বুলবুল আরও দাবি করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। পাশাপাশি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) কাছে করা অভিযোগের শুনানিও তাঁদের অনুকূলে হয়েছে। এসব নথি ও জিডি থাকা সত্ত্বেও তাঁরা থানার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বুলবুলের অভিযোগ, সর্বশেষ আনিসুরসহ তাঁর সহযোগীরা তাঁকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এতে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, নির্মাণকাজে বেআইনি বাধা বন্ধ, হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ তদন্ত এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আনিসুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গাড়ি চালানোর কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এই বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাছুমা মুস্তারীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মিডিয়া মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।