
পলাশ তালুকদার, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ-
পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়নের বিস্তার এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে বরিশালের গৌরনদীতে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিনব্যাপী তিনটি পৃথক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা কৃষক দলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ, উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন এবং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষের চারা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত কুতুবপুর স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। পরে গৌরনদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান।
পরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-২০২৬-এর অর্থায়নে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী ও বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়। একই অনুষ্ঠানে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচিতে জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং বৃক্ষরোপণ একটি সুস্থ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী কর্মসূচির বিভিন্ন পর্বে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বন বিভাগের প্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের ভাষ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবুজায়ন বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও পরিবেশবান্ধব জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করাই এ ধারাবাহিক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।