
এ,এস মামুন, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
বরিশালের গৌরনদী পৌর এলাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত। পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দলবেঁধে কুকুরের অবাধ বিচরণে আতঙ্ক ও ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচলে তৈরি হয়েছে বাড়তি উদ্বেগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী টরকী বন্দর, গৌরনদী পৌরসভার সামনের সড়ক থেকে শুরু করে প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান শাহে আলম খানের বাড়ির সড়ক পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত বেওয়ারিশ কুকুরের দল ঘুরে বেড়াচ্ছে।
দিন-রাত সড়কে কুকুরের অবাধ বিচরণে পথচারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে কুকুরের দল পথচারীদের দিকে তেড়ে এলে অনেকেই ভয় পেয়ে যান। আবার কখনো একাধিক কুকুরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া কিংবা মারামারির কারণে সড়কে চলাচলকারীদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।
বিশেষ করে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শিশু ও বয়স্কদের একা চলাচলের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত নতুন কোনো সমস্যা নয়। দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে এ সমস্যা থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দিন দিন কুকুরের সংখ্যা ও উৎপাত বাড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, জনবহুল পৌর এলাকায় পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
পৌরবাসীর প্রশ্ন—বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত নিয়ে অভিযোগ থাকলেও সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ কোথায়?
স্থানীয়দের দাবি, জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা ও উৎপাত নিয়ন্ত্রণে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও মানবিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।