
মোমিন ইসলাম সরকার দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ-
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ৬ নং সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের মনিরপার মল্লিকাদহ এলাকায় মাচায় ‘মার্সেলো’ জাতের তরমুজ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক হালিম বাদশা। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে করা এ চাষে আশানুরূপ ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করে ২৫ হাজার টাকার বেশি আয় করেছেন তিনি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করার আশা করছেন কৃষক।
দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়ের বাস্তবায়নে এ প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়। মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার, ফলের গুণগত মান বজায় রাখা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
কৃষক হালিম বাদশা জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বীজ ও সারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান নিয়মিত মাঠে এসে ‘মার্সেলো’ জাতের তরমুজ চাষের উপযোগী পদ্ধতি, পরিচর্যা ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
হালিম বাদশা বলেন, “কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শে মাচায় তরমুজ চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। এরই মধ্যে ২৫ হাজার টাকার বেশি তরমুজ বিক্রি করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে বর্তমানে ক্ষেতে থাকা তরমুজ থেকে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।”
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈম মোর্শেদ বলেন, “দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পরীক্ষামূলকভাবে সোনাহার ইউনিয়নের মনিরপাড়া মল্লিকাদহ এলাকায় কৃষক হালিম বাদশার ২০ শতক জমিতে ‘মার্সেলো’ জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছে। আমি নিজে মাঠ পরিদর্শন করেছি। মাঠ পরিদর্শনে দেখা গেছে, মাচা পদ্ধতিতে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে এবং গাছের স্বাস্থ্য ও ফলন অত্যন্ত ভালো।”
তিনি আরও বলেন, “কৃষক হালিম বাদশা ইতোমধ্যে ২৫ হাজার টাকার বেশি তরমুজ বিক্রি করেছেন। বর্তমানে জমিতে যে পরিমাণ ফলন রয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সেখান থেকে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করা সম্ভব হবে। কৃষকদের আধুনিক ও লাভজনক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে উপজেলা কৃষি অফিস নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। মাচায় তরমুজ চাষের এ সাফল্য স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহ বাড়াবে বলে আমরা আশা করছি।”
কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক ফসল উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের প্রদর্শনী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। মাচায় তরমুজ চাষের সফলতা ছড়িয়ে পড়লে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে তরমুজ চাষের পরিধি আরও বাড়তে পারে।