
আতাউর রহমান চঞ্চল, বরিশাল গৌরনদীঃ-
বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায় ৬০ বছরের বৃদ্ধের যৌন লালসায় ৯ বছরের মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণের শিকার এর অভিযোগে থানায় মামলা।
গত-বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে গৈলা ইউনিয়নের (বড়ইতলা) এলাকায় ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ করেছে শিশুটির পরিবার।
অভিযুক্ত সাত্তার ফরিয়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা এলাকার আলেক ফরিয়ার ছেলে। তিনি শিশুটির প্রতিবেশী চাচাতো ভাইয়ের শ্বশুর বলে জানা গেছে।
ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সাত্তার ফরিয়ার বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটি নগরবাড়ী এলাকার দারুস সুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোট্ট বয়সেই বাবাকে হারানো শিশুটি মা ফাতেমা বেগমের কাছে বড় হচ্ছে। ২০১৭ সালে তার বাবা মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে আসছেন মা।
পরিবারের অভিযোগ, পাশের বাড়িতে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার সুবাদে সাত্তার ফরিয়ার ওই বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এ সুযোগে তিনি শিশুটিকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার দিন দুপুরে শিশুটির মা বয়স্ক ভাতার আবেদনের জন্য আগৈলঝাড়া বাজারে যান। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সাত্তার ফরিয়া শিশুটির ঘরে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে পরিবারের অভিযোগ।
পরে শিশুটি বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়।
শিশুটির মা ফাতেমা বেগম বলেন, আমার মেয়ের বয়স মাত্র ৯ বছর। তার বাবা নেই। অনেক কষ্ট করে তাকে পড়াশোনা করাচ্ছি। আমার মেয়ের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
প্রতিবেশী আব্দুর রহমান বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই। অভিযুক্ত ব্যক্তি আমার শ্বশুর হলেও অপরাধ প্রমাণিত হলে তার শাস্তি হওয়া উচিত। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা দাবি করছি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ৯ বছরের একটি শিশুর ওপর এমন গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রতি ধিক্কার জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।