
মোঃ হেমায়েত হোসেন খান,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ- ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে মাদারীপুরে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বিভিন্ন মসজিদে ইমামতি করেছেন ক্বারী মুহাম্মদ সুলতান। বিয়ে করার পরে সন্তানাধী হওয়ায় সংসারে নেমে আসে অভাব। পরে গুরুজনের পরামর্শে মসজিদের ইমামতি ছেড়ে দিয়ে শহরের কোটের মোড়ে ভ্রাম্যমান দোকানে পুরী, সিংগারা, আলুর চপ,বেগুনি পিঁয়াজু,ছোলা দিয়ে মুড়ি ভর্তা বিক্রি করে চলছে তার সংসার জীবন। এতে তার প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বিক্রি হয়। এতে প্রতিমাসে তার অর্ধ লাখ টাকা উপার্জন হয়।মাদারীপুর প্রতিনিধি রাকিব হাসান এর তথ্য ও ভিডিও চিত্রে ডেক্স রিপোর্ট
মাদারীপুর পৌর শহরের পুরাতন কোটের মোড়ে ভ্রাম্যমান দোকান করেন বরগুনা জেলার পাথরঘাটা এলাকায় হাফেজ ক্বারী মুহাম্মদ সুলতান। স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তার সংসার। লেখাপড়া শেষে ১৯৯৫ সালে জীবনের তাগিদে চলে আসেন মাদারীপুরে।
সন্তানেরা আস্তে আস্তে বড় হওয়ায় মসজিদ থেকে যতটুকু সম্মানী পেত তাতে সংসার চলা বড়ই দুষ্কর। পরে ২০১৬ সালে গুরুজনদের মতামতে ৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ভ্রাম্যমান একটি মুড়ির দোকান দেন। পরে সেখানে ভালো বিক্রি হওয়ায় সিঙ্গারা পিয়াজু আলুর চপ, বেগুনি ও মুড়ি ভর্তা আইটেম বাড়ায়। পর থেকে তার আর পিছে তাকাতে হয়নি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতিতে যেখানে প্রত্যেকটা পণ্যের দাম বাড়লেও এখনো তিনি ৫ টাকা হারে বিক্রি করে যাচ্ছে এ সকল খাবার। এ সকল খাবার বিক্রি করে যে টাকা লাভ হয় তা দিয়ে সংসার পরিচালনা করার পরও তা দিয়ে হজ করেছেন স্বামী স্ত্রী।
এখনকার যুগে ভেজাল খাদ্যের অভাব নেই। কিন্তু এই কোর্টের মোড়ে হুজুর যা বিক্রি করে এগুলো ভালো মানের খাবার। তার খাবারে কোন ভেজাল নেই। প্রতিদিনের খাবার প্রতিনিয়তই শেষ হয়ে যায়। অনেক সুস্বাদু খাবার হয় তাই আমরা এখানে খেতে প্রতিদিন আসি।
ইমামতি করে যা পেতাম এতে সংসার চলা বড় দুষ্কর হয়ে পড়েছিল। কোটের মোড়ে ভ্রাম্যমান দোকান বসিয়ে পুরি সিঙ্গারা বিক্রি করে ভালো টাকা লাভ হচ্ছে। এ টাকা দিয়ে মেয়েদেরকে হাফেজ এবং ক্বারী বানিয়েছি। এবং ছেলে মুকতি মাওলানা বানাইতে পারছি। মহান আল্লাহতালার কাছে শুকরিয়া আল্লাহ তাআলা রহমতে এ ব্যবসা আমার সফলতা হয়েছে। এদিকে এই ক্বারীর সফলতা দেখে অনেকেই আগ্রহী পোষন করেছেন।