
মোমিন ইসলাম সরকার, দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ-
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের মল্লিকাদহ বৈদ্যনাথ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে কয়েকটি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় মাঠের কয়েকটি পুরোনো ও ছায়াদানকারী গাছ সম্প্রতি কেটে ফেলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব গাছ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর জন্য ছায়া প্রদানসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। হঠাৎ করে গাছগুলো কেটে ফেলার ঘটনায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী জানান, গাছগুলো তাদের খেলাধুলা ও বিশ্রামের জন্য অত্যন্ত উপকারী ছিল। গাছ না থাকায় এখন মাঠে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার রায় জানান, বিদ্যালয়ের প্রাচীর নির্মাণের জন্য গাছ অপসারণে অনেক আগেই একটি লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। তবে সে সময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি না থাকায় গাছগুলো কাটা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে স্থানীয়দের সহযোগিতা ও পরামর্শের ভিত্তিতে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উপজেলা হলরুমে আয়োজিত এ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ৫২ জন বিডার অংশগ্রহণ করেন। তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ের মোট ১৯টি গাছ কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২টি শিশু গাছ এবং ১৭টি ইউক্যালিপটাস গাছ রয়েছে। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসানের উদ্যোগে বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। গত দশ দিন আগে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাকের উপস্থিতিতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছগুলো কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়।
সর্বোচ্চ দর হিসেবে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারিত হলে ইজারাদার তহিদুর রহমান (মিস্টার) গাছগুলো ক্রয় করেছেন বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার রায় জানিয়েছেন।
১৯টি গাছের মধ্যে বিদ্যালয়ের সামনে একটি ঝুঁকিপূর্ণ একটি শিশু গাছ ছিল। তাই বিদ্যালয়ের সামনের গাছটিও কাটা হয়েছে বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার রায়।
স্থানীয় যুব সমাজের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা প্রতিবাদের মাধ্যমে জানান যে, ২০১৮ সালে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গাছ কাটার উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেওয়ায় গাছগুলো কাটা সম্ভব হয়নি। তবে এবার গোপনে টেন্ডারের মাধ্যমে গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়ের সামনে পাকা রাস্তার পাশে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি দোকান রয়েছে, যেখান থেকে সংগৃহীত অর্থ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা হয়। জানা গেছে, বিদ্যালয়ের পেছনের পশ্চিম পাশে প্রাচীর নির্মাণের উদ্দেশ্যে এই গাছগুলো কাটা হয়েছে।