
সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি, পর্যাপ্ত সার না পাওয়ার অভিযোগ; বরাদ্দের সার যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী উপজেলায়
আতাউর রহমান চঞ্চল, নিউজ ডেস্ক, বরিশাল গৌরনদীঃ-
বরিশালের গৌরনদীতে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি, চাহিদার সময় পর্যাপ্ত সার না পাওয়া এবং গৌরনদীর বরাদ্দকৃত সার পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকি ও বাজার মনিটরিং যথেষ্ট না থাকায় কিছু বিক্রেতা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। এতে একদিকে যেমন কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে সময়মতো সার না পাওয়ায় ফসলের উৎপাদন নিয়েও তৈরি হচ্ছে শঙ্কা।
স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, ফসলের মৌসুমে জমিতে নির্দিষ্ট সময়ে সার প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রয়োজনের সময় সার না পেলে কৃষকদের বাড়তি দামে সার কিনতে হয় কিংবা দূরবর্তী এলাকায় ছুটতে হয়। এতে কৃষকের সময় ও অর্থ—দুটিই অপচয় হচ্ছে।
কৃষকদের আরও অভিযোগ, গৌরনদীতে সার সরবরাহ করা হলেও বিভিন্ন সময়ে সেই সার পার্শ্ববর্তী আগৈলঝাড়া এবং মাদারীপুরের কালকিনি-ডাসার এলাকায় চলে যাচ্ছে। তবে বরাদ্দকৃত সার অন্যত্র যাওয়ার অভিযোগের সত্যতা ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বাড়তি দামে সার বিক্রির অভিযোগ
কৃষকদের ভাষ্য, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রির কথা থাকলেও কোনো কোনো বিক্রেতার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা।
কৃষকদের দাবি, সার বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত অভিযান ও বাজার মনিটরিং চালানো হলে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির প্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে বিক্রয়মূল্য প্রকাশ্যে টাঙিয়ে রাখা এবং কৃষকের ক্রয় রসিদ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সার কিনতে গিয়ে বাড়তি চাপের অভিযোগ
কিছু কৃষকের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার পাশাপাশি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সার কেনার সময় অন্যান্য কৃষি উপকরণ কেনার জন্য চাপ দেওয়ার মতো পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হয়।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, ব্যাপ্তি এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—তা সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চান কৃষক
কৃষকদের দাবি, ডিলার নিয়োগ, সার বরাদ্দ, পরিবহন ও বিক্রয়—প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। কোনো ডিলার বা বিক্রেতার বিরুদ্ধে সরকারি মূল্যের অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি কিংবা বরাদ্দের সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তাদের মতে, কৃষকের সংখ্যা, জমির পরিমাণ ও মৌসুমি চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সার বরাদ্দ ও বিক্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হলে প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সেকেন্দার শেখের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত ০১৭০০৭১৫৫৭৫ ও ০১৭২৮৯৮৬২৮০ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় প্রতিবেদন প্রকাশের সময় এ বিষয়ে তার তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
কৃষকদের প্রত্যাশা, দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার করে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে গৌরনদীর বরাদ্দকৃত সার অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষকদের ভাষ্য, সময়মতো পর্যাপ্ত সার, সরকারি নির্ধারিত মূল্য এবং স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থাই পারে কৃষকের উৎপাদন খরচ ও ভোগান্তি কমাতে।