
মোঃ সোহেল রানা রাজশাহীঃ-
রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন কালুমিস্ত্রিরমোড় এলাকায় অনার্সপড়ুয়া শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি, অশালীন আচরণ, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার ভিডিওটি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নজরে আসার পর তাঁর নির্দেশনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কালুমিস্ত্রির মোড় এলাকার মো. বাবুর ছেলে মো. বান্টি হাসান (১৮), মো. জিয়াদের ছেলে মো. রিয়াজন (২০) এবং মো. এনামুল হকের ছেলে মো. তাসিন লাবিব (১৯)।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে আরএমপি পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিঙ্গিপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ জানায়, ১৪ আগস্ট ২০২৬ বোয়ালিয়া থানায় মামলা দায়েরের পর বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে কালুমিস্ত্রির মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ববিরোধের জের ধরে কালুমিস্ত্রির মোড় এলাকার মো. এবাদতের ছেলে মো. শাহানুর (২০), মো. জিয়াদের ছেলে মো. রিয়াজন (২০), মো. বাবুর ছেলে মো. বান্টি হাসান (১৯) ও মো. এনামুল হকের ছেলে মো. তাসিন লাবিব (১৯)-সহ অজ্ঞাত কয়েকজন বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অভিযুক্তরা কালুমিস্ত্রির মোড় এলাকায় ওই ছাত্রীর ভাড়া বাসার সামনে অবস্থান নিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এ সময় অশালীন কথাবার্তা ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তাকে হয়রানি এবং রাজশাহীতে পড়াশোনা ও অবস্থান করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার একটি ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি পুলিশ কমিশনারের নজরে এলে তাঁর নির্দেশনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় গ্রেপ্তার তিনজন ছাড়াও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। তাদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরএমপি জানিয়েছে, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং, যৌন হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকিসহ যেকোনো ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মহানগরীর নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
তবে মামলার অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ এবং আদালতের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে অভিহিত করা আইনগতভাবে সমীচীন নয়।