
মোঃ হেমায়েত হোসেন খান,মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ-তারেক রহমান খুনি, খালেদা জিয়া খুনি, এদের কাজেই হলো মানুষ খুন করা, বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরোও বলেন জিয়াউর রহমান খুনি, বিএনপি খুনির দল। এরা মানুষ পুড়িয়ে মারে। ট্রেনে কোলে শিশুসহ মাকে পুড়িয়ে হত্যা করছে।
সেই ঘটনায় সারা বিশ্বের বিবেককে নাড়া দিয়েছে, কিন্তু (বিএনপি) বিবেকে নাড়া দেয়নি। এই বিএনপি সন্ত্রাসীর দল। বিএনপির রাজনীতি করার কোন অধিকার নাই। আর জামায়াত যুদ্ধাপরাধীর দল। এদেরও রাজনীতি করার অধিকার নেই।
শনিবার (৩০ডিসেম্বর)২০২৩ ইং তারিখ বিকালে মাদারীপুর জেলার কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে মাদারীপুর ৩ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, জিয়া সব রাষ্ট্রীয় অর্থ সম্পদ দিয়ে কিছু লোককে ধনী তৈরি করে তাদের মাধ্যমে জনগণের ভোট চুরি করে গেছে। পরে সংবিধান লঙ্ঘন করে সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতির মতো দুইটা গুরুত্বপূর্ণ পদ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছিল।
পরে প্রহসের নির্বাচন করে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। রাজনৈতিক কিছু উচ্ছিষ্ট থেকে তৈরি হয় বিএনপি নামের সংগঠন। এবং যারা যুদ্ধাপরাধী ছিল জিয়াউর রহমান তাদের দেশে ফিরিয়ে
এনেছে ও তাদের নিয়েই রাজনীতি করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৯১ মার্কিন ডলার। মাত্র তিন বছরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাথাপিছু আয় ২৭৭ ডলারে উন্নীত করেন। ১৯৭৫ সালের পরে জিয়াউর রহমানসহ জারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা দেশের মানুষের আয় বাড়াতে পারেনি।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, নৌকা হলো নুহ নবীর নৌকা। ভয়ংকর প্রলয় থেকে বাস্তে ঐ সময় সবাই নৌকায় উঠেছিল। আর নৌকায় ভোট দিলে উন্নয়নের ধারা অব্যায়হত থাকবে। আপনারা সবাই সজাগ থাকবেন যাহাতে বিএনপি জামাত নির্বাচনের দিন যেন বিশৃঙ্খলা করতে না পারে।
এর আগে সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে মাদারীপুর জেলার কালকিনিতে জনসভা স্থলে হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত হয়। তবে এই উপস্থিতির একটি বড় অংশ ছিল নারী। টানা ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। নারীদের সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির সুযোগের পাশাপাশি সংসদেও কথা বলার জায়গা করে দেওয়ায় আনন্দে আত্মহারা নারী নেত্রীরা। স্লোগানে দলে দলে মাঠে যোগ দেন বিভিন্ন নেতাকর্মীরাও। আওয়ামীলীগ সভাপতিকে কাছে পেয়ে উৎফুল্ল নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানাও।জনসভাকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তায় তৎপর ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য।
এসময় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।উপস্থিত ছিলেন,জাতীয় সংসদের চিফহুইপ ও মাদারীপুর-১ আসনের নৌকার প্রার্থী নূর-ই আলম চৌধুরী লিটন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের নৌকার প্রার্থী শাজাহান খান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৮ আসনের নৌকার প্রার্থী আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং মাদারীপুর-৩ আসনের নৌকার প্রার্থী ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য মোঃ আনোয়ার হোসেন অন্যন্য নেতৃবৃন্দ।