
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ-
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ওটরা গ্রামের সন্তান মোহাম্মদ দুলাল হোসেন ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা অতিক্রম করে বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রজীবনের নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় তিনি আজ জাতীয় রাজনীতিতে সুপরিচিত একজন সংগঠক। পাশাপাশি তিনি বরিশাল উত্তর ও পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
মোহাম্মদ দুলাল হোসেন মরহুম মো. সাহেব আলী ও মরহুমা আম্বিয়া বেগমের সন্তান। শৈশব কেটেছে উজিরপুর উপজেলার ওটরা গ্রামে। প্রাথমিক শিক্ষা ভবানীপুর হাই স্কুল-সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং মাধ্যমিক শিক্ষা ওটরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ঢাকায় পাড়ি জমান। ঢাকা কলেজে অধ্যয়ন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৯৫ সালে স্নাতক ও ১৯৯৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবনেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভাইস প্রেসিডেন্ট, এজিএস এবং প্রচার সম্পাদকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে সংগঠনে নেতৃত্বের পরিচয় দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্ররাজনীতিতে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা পরবর্তীকালে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বকে আরও পরিণত করেছে।
ছাত্ররাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন মোহাম্মদ দুলাল হোসেন। বর্তমানে তিনি দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বরিশাল উত্তর ও পটুয়াখালী অঞ্চলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। দলীয় সূত্র জানায়, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, নতুন নেতৃত্ব তৈরি এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে তিনি বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বস্ত্রবাণিজ্যের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ঘনিষ্ঠজনরা জানান।
ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর সহধর্মিণী তানজিলা আক্তার এ্যানি। তাঁদের তিন কন্যা—শারিকা তাহসিন ফিওনা, আরিয়া তাহসিন ইলহাম ও ওয়াজিহা তাহসিন আবিরা। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবারের সদস্যদের সময় দেওয়া এবং সন্তানদের সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তোলাকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
মোহাম্মদ দুলাল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করা, তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়েই তিনি কাজ করে যেতে চান। তাঁর মতে, জবাবদিহিমূলক, নীতিনিষ্ঠ ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠাই দেশের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত।
ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে মোহাম্মদ দুলাল হোসেন বর্তমানে দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে রাজনৈতিক, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।