
প্রতিদিনের ক্রাইম নিউজ ডেস্ক, বরিশাল গৌরনদীঃ-
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চেংঙ্গটিয়া গ্রামে চুরি, মাদক বেচাকেনা, জুয়া ও বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচলসহ নানা অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলার সীমান্তবর্তী ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এ গ্রামটি দুই থানার সদর এলাকা থেকে তুলনামূলক দূরে হওয়ায় নিয়মিত পুলিশি নজরদারি কম—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল ও নজরদারি কম থাকায় সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। গ্রামে মাদক বেচাকেনা, জুয়া, চুরি এবং কিশোরদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ গত শনিবার রাতে চেংঙ্গটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ ঘরামীর বসতবাড়ি থেকে প্রায় ছয় হাজার টাকা মূল্যের হাঁস-মুরগি চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, শুধু হাঁস-মুরগিই নয়, বাড়ির বাইরে থাকা পানির মোটর, বৈদ্যুতিক তারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রীও বিভিন্ন সময়ে চুরি হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, চেংঙ্গটিয়া বাজারের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও অতীতে নগদ টাকা ও মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বাড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে অনেকেই সাহস পান না। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাগজপত্রহীন ও লাইসেন্সবিহীন কিশোরদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচল নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। এতে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, ভ্যান, অটোরিকশা, হাঁস-মুরগি ও ছাগলসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে। সন্ধ্যার পর এলাকায় অপরিচিত ও বহিরাগতদের আনাগোনাও বাড়ে বলে অভিযোগ তাদের।
সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে চেংঙ্গটিয়া গ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, কোনো ঘটনা ঘটার পর অপরাধীরা দ্রুত এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় চলে যাওয়ার সুযোগ পায়। ফলে অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় চেংঙ্গটিয়া গ্রামে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হলে এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়বে। একই সঙ্গে মাদক, জুয়া, চুরি ও কিশোরদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সীমান্তবর্তী এই গ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতা দূর হবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরে আসবে।