
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের সাকোকাঠি সুইসগেট সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই তড়িঘড়ি করে খাল পুনঃখননের অভিযোগ উঠেছে। খালের একপাশ ঘেঁষে অপরিকল্পিতভাবে মাটি উত্তোলনের ফলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এতে ওই সড়কে চলাচলকারী হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরিকল ইউনিয়নের সাকোকাঠি থেকে বাটাজোর পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সাকোকাঠি সুইসগেট সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি খাল খননের কাজ করা হয়। তবে খালের তীরবর্তী বেশ কিছু পাকা ও কাঁচা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই খননকাজ পরিচালনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগরপুর বাজারসংলগ্ন প্রধান খাল থেকে সাকোকাঠি সুইসগেট পর্যন্ত প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট এলাকায় খালের মধ্যে অর্ধশতাধিক পাকা-কাঁচা স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনা রেখে খালের অন্য পাশে পাকা সড়কের একেবারে ঘেঁষে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন করা হয়েছে। তাও আবার খাল থেকে পানি নিষ্কাশন না করেই গভীর পানির মধ্যে খননকাজ করায় সড়কের পাশের মাটি সরে গিয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত না করে এবং দখলদারদের স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই খননকাজ করায় পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সড়কের পাশের মাটি দুর্বল হয়ে ধসের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বড় একটি অংশ নদী বা খালের গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের যথাযথ তদারকির অভাবকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধ স্থাপনা বহাল রেখেই খননকাজ শেষ করেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ১১ আগস্ট মঙ্গলবার অনেকটা দায়সারাভাবে খননকাজ শেষ করা হয়।
স্থানীয়রা আরও বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই খালটি দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনার কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। খননের আগে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
তাদের আশঙ্কা, অবৈধ স্থাপনাগুলো দ্রুত উচ্ছেদ করে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা না হলে ভবিষ্যতে সড়কটি আরও বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়তে পারে। এতে একদিকে জনচলাচল ব্যাহত হবে, অন্যদিকে সড়কটি সংস্কারে সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল খালের তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার এবং খননকাজের বিষয়ে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি স্থায়ীভাবে রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।