1. admin@protidinercrime.com : admin :
  2. protidinercrime@gmail.com : প্রতিদিনের ক্রাইম ডেস্ক : প্রতিদিনের ক্রাইম ডেস্ক
মাদারীপুরে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটা,বাড়ি বিএনপি নেতার দখলে - Protidiner Crime - প্রতিদিনের ক্রাইম
১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| রবিবার| সকাল ৭:৪৪|
সংবাদ শিরোনামঃ
লোনের প্রলোভনে ফাঁকা চেক নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে নারী উদ্যোক্তার সংবাদ সম্মেলন চুরি মামলা তুলে না নেয়ায় সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম-আঙুল বিচ্ছিন্ন আরএমপির ৩৪তম পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির ওয়ার্ল্ড ভিশনের উপকূলীয় অঞ্চলে সোলার পাওয়ারড সেভ ওয়াটার প্রজেক্টের শুভ উদ্বোধন লাগামহীন অভিযোগ দেবভোগ কমিউনিটি ক্লিনিকের সুকান্তের নামে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বিট সুগার মিলের শুভ উদ্বোধন করলেন শিল্পমন্ত্রী,, স্বর্গীয় মানিক লাল সাহার ৮৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমান ভারতীয় মদ ও সিরাপ জব্দ বরিশাল জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল রাজশাহীতে দুই মন্ত্রী, বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা

মাদারীপুরে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটা,বাড়ি বিএনপি নেতার দখলে

প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ২৭০ বার পড়া হয়েছে

মোঃ কামাল হোসেন,মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ- মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে প্রখ্যাত কবি ও ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটা বাড়ি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সেখানকার একটি ঘরে একাধিক ছবি, বই ও আসবাব পত্র ভাঙচুর করে ফেলে দেন ওই বিএনপি নেতা। পরে ওই ঘরে ওএমএসের চাল মজুত করা হয়।

অভিযুক্ত ওই বিএনপি নেতার নাম সোহেল হাওলাদার। ডাসার উপজেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তাঁর বাড়ি উপজেলার কাজীবাকাই ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায়।

বর্তমানে ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ শূন্য রয়েছে। এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উত্তম কুমার দাশ বলেন, ‘সোহেল হাওলাদার নামের বিএনপির এক নেতা লেখকের ঘর দখলে নিয়ে ও এমএসের ডিলারের চাল রেখেছিলেন।
আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই তিনি ওই চাল সরিয়ে ফেলেছেন। ওই দখলদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডাসার ও কালকিনি উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সূত্র জানায়, ডাসার উপজেলার কাজীবাকাই ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া মৌজায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ৭ একর ১৫ শতাংশ পৈতৃক জমি রয়েছে। এসব জমির মধ্যে ২ একর ৯৭ শতাংশ জমি সরকারের খাসজমি হিসেবে রেকর্ড।

গত শনিবার দুপুরে লেখকের পৈতৃক ভিটার একটি টিনশেড ঘরের (সুনীল স্মৃতি পাঠাগার) তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন বিএনপি নেতা সোহেল হাওলাদার ও তাঁর লোকজন।

পরে তাঁরা লেখকের ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি, বই, আসবাব পত্র, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিসহ একাধিক ছবি ভাঙচুর করেন। এরপর তাঁরা ওই ঘরে ওএমএসের প্রায় এক ট্রাক চাল রেখে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন। এ ছাড়া লেখকের বাড়ির সামনে জেলা প্রশাসক কর্তৃক লাগানো একটি সাইনবোর্ডও ভেঙে সরিয়ে ফেলা হয়।

লেখকের পৈতৃক ভিটা দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় এক ব্যক্তিকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকেই সোহেল হাওলাদার লোকজন নিয়ে লেখকের জমি তাঁর নিজের বলে দাবি করেন।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মী–সমর্থক তাঁর সমালোচনা করলে তাঁদের বাড়িঘরে হামলা চালান সোহেল। এখন ভয়ে কেউ কথা বলছেন না। এই সুযোগে সোহেল তাঁর লোকজন নিয়ে এখানকার টিনশেড ঘরের তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন। ওই ঘরে আবার ওএমএসের চাল রাখেন। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সবাই জানে।

এ বিষয়ে জানতে সোহেল হাওলাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ সম্পর্কে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশীদ খান সাংবাদিকদের বলেন,সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটার তালা ভেঙে এক ব্যক্তি দখলে নেওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। যাঁরা এই কাজের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউএনও ও এসি ল্যান্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা লেখকের বাড়িটি দখলমুক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
পৈতৃক ভিটা দখলের নিন্দা

এদিকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটা বেদখল হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জেলার সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাহিত্যপ্রেমীরা। তাঁদের দাবি, দখলদারদের শাস্তি নিশ্চিত করে লেখকের ভিটা দখলমুক্ত করে তা সংরক্ষণ ও সংস্কার করতে হবে।

কথাসাহিত্যিক ও গপ্পোর সম্পাদক মাসুদ সুমন বলেন,প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও আমাদের প্রিয় লেখকের শেষ স্মৃতিচিহ্নটি তাঁর পৈতৃক ভিটা। যেটা দখলের কথা শুনে আমাদের হৃদয় ব্যথিত করেছে। খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। দখলদারের বিচার নিশ্চিত করে প্রশাসনের কাছে বেদখল হওয়ার জমি পুনরুদ্ধারের দাবি জানাই।

উদ্ভাস আবৃত্তি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুমান বলেন, ‘সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমাদের মাদারীপুরের শুধু গর্ব নন, পুরো দেশের গর্ব। সরকারি ভাবে লেখকের পৈতৃক ভিটায় সুনীল সাহিত্য গবেষণাকেন্দ্রসহ একটি জাদুঘর করার কথা। অথচ সরকার পরিবর্তনের পর সেটি দখল হয়ে যাওয়া খুবই অপ্রত্যাশিত একটি ঘটনা। খুব দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে লেখকের পৈতৃক ভিটা দখলমুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৩৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ভারতের মাদারীপুর মহকুমার রাজৈর উপজেলার আমগ্রামের মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি তৎকালীন মাদারীপুর মহকুমার কালকিনির পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে। তিনি ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর কলকাতায় মারা যান।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved ©2024 protidinercrime.com