
মোঃ হেমায়েত হোসেন খান,নিউজ ডেস্ক মাদারীপুরঃ-
দীর্ঘ এক দশক ধরে অজয় কুন্ডু প্রথম আলোর মাদারীপুর প্রতিনিধি হিসেবে সুনামের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি শিক্ষকতা পেশায়ও আছেন। তাঁর দায়িত্বশীল, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান হিসেবে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতীয় পর্যায় ‘ব্রাক মাইগ্রেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’, ২০১৯ সালে জেলা পর্যায় সেরা ক্রীড়া সাংবাদিক ছাড়াও জাতীয় পর্যায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, অধিকার সুরক্ষা ও আইনি সহায়তায় নিবেদিত একটি অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্ল্যাটফর্ম এমআরডিআই (মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ) ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের প্লাটফর্ম ‘গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্ক (GIJN) সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
তাঁর সাংবাদিকতার দীর্ঘ সময়ে মাদারীপুরের অনিয়ম, অপরাধ, রাজনীতির দাপট, ক্ষমতার অপ্রব্যবহার, জনদুর্ভোগ নিয়ে বহু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ আমলে প্রভাবশালী তিন এমপিকে বিরুদ্ধেও রয়েছে তার অসংখ্য প্রতিবেদন। বিশেষ করে শাজাহান খান, আবদুস সোবহান গোলাপ, নূর-এ আলম চৌধুরী লিটন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমকে নিয়ে তিনি অসংখ্য রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন। এসব নিউজের পরেও তিনি তার সাহসী সাংবাদিকতার জন্য টিকে আছেন। বিশেষ করে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনেও তাঁর ছিল সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে ক্ষমতাশীল ব্যক্তিদের নিপীড়ন, তাদের বাড়িঘরে হামলা, অসংখ্য মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানির ঘটনায় একাধিক নিরপেক্ষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। যা ওই সময় বিএনপির এমপি প্রার্থী ও রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষেই একক সাহসী অবস্থান ছিল তাঁর। যা নিয়ে মাদারীপুর ৩ আসনের এমপি আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, মাদারীপুর ২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা মিল্টন বৈদ্য ও মাদারীপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা কামাল জামান মোল্লা অকপটে বিভিন্ন সভায় স্বীকারও করেন।
এরপর আসি জুলাই আন্দোলনে তাঁর সাহসীকতা নিয়ে। সবাই যখন ভয়ে ভীত। পুলিশ ও নিপীড়নকারীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পায় তখন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পাশে দাঁড়ায় এই প্রথম আলোর সাংবাদিক অজয়। জুলাই আন্দোলন মাদারীপুর শুরু হয় ১৭ জুলাই। ওই দিন অনেক সাংবাদিকই মস্তফাপুরে ছাত্রদের আন্দোলনে সংবাদ কাভারেজ করতে যান। কিন্তু স্রোতের বিপরীতে গিয়ে তিনি ছাত্রদের পক্ষে সরাসির নিউজ করেন। নিউজের শিরনাম করেন, ‘ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা’। সরকার দলের লাঠিয়ান বাহিনীকে নিয়ে নিউজ তখন সাহসিকতার সঙ্গে প্রথম আলোর অজয় কুন্ডুই করেছিল। এরপর জুলাই আন্দোলন নিয়ে পুলিশের গুলিতে মাদারীপুরে দুজন মৃত্যুসহ অসংখ্য সাহসী ও মানবিক নিউজ তিনিই করেছেন। (যার কিছু আমলনামা ছবি আকারে সংযুক্ত করা হলো)
ইউনূস সরকারের সময়ও তিনি সরকারের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। যেখানে জেলার বেশির ভাগ সাংবাদিকই সরকার দলের এমপি ও নেতাদেরপক্ষে অবস্থান করে আসছেন। ভিন্নচিত্রে আছেন প্রথম আলোর সাংবাদিক অজয়। তার প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ও নীতি অনুসারে আগেও যেমন দলীয় সুবিধাভোগী হয়নি এখনো তিনি স্বতন্ত্র ভূমিকায়।
সম্প্রতি বিএনপির এমপি ও ওসির সঙ্গে মঞ্চে হত্যা মামলার আসামি বিএনপির এক নেতা, পুলিশের কাছে তিনি পলাতক- এমন শিরনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। যা সমাজের সাধারণ মানুষের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। তবুও সমালোচনার মুখে পড়েছে পুলিশ ও এমপি নিজেও। এই সংবাদের জেরে সাংবাদিক অজয় কুন্ডুকে নিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এক শ্রেণির মানুষ তার সম্পর্কে ও তার পরিবারকে না জেনে বুঝে ফ্যাসিস্ট ট্যাগ দিয়ে মানহানীকর অপপ্রচার করে যাচ্ছে। যারা এসব করছেন তারা তাদের ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিন। অযথা একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক ও তার সুনাম নষ্ট করবেন না। যারা এই কাজে লিপ্ত তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। এবং একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রাখলাম।
এবার আসি অজয় কুন্ডুর পরিবার নিয়ে। যারা জানে না তাদের জন্য এটা জানা খুবই দরকার। কেননা আপনি কারো সমালোচনা করতেই পারেন, তবে সেটা সঠিক সত্য জেনে তারপরে করুণ। মিথ্যে তথ্য উপাত্ত ছড়িয়ে সমালোচনা করা যায় না। গঠনমূলক সমালোচনা করতে হলে সৎ সাহস থাকতে হয়।
অজয়ের পৈতিক বাড়ি মাদারীপুর শহরের চরমুগরিয়া বন্দরে ঐহিয্যবাহী পোদ্দারবাড়িতে। তার বাবা শঙ্কর কুন্ডু ছিলেন একজন সুনামধন্য চাল ব্যবসায়ী। যদিও সময়ের বিবর্তনে ব্যবসা লোকসান হওয়ায় জীবনের শেষ সময়ে তিনি মস্তফাপুরে অবস্থিত একটি ফিলিং স্টেশনে ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেছেন। ক্যানসার জণিত কারণে ২০১২ সালে তিনি পরলোক গমন করেন। অজয় কুন্ডুর মাতা নাম দীপা রানী কুন্ডু। তিনি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার রায়পাড়া সদরদী এলাকার সুনামধন্য সাহা বাড়ির মেয়ে। অজয় কুন্ডুরা ছয় ভাই বোন। সবাই পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করা। পরিবারের সবার ছোট অজয় কুন্ডু। ২০১২ সালে যখন তার বাবা মারা যায় তখন তিনি এসএসসি পাশ করেছেন। একাদশ শ্রেণির ভর্তির আগেই তার বাবার সৎকার করতে হয়েছে। হার না মানা অজয় যখন নবম শ্রেণির ছাত্র তখন থেকেই মানুষের বাসায় গিয়ে টিউশনি করে নিজের খরচ বহন করতো। বাবার মৃত্যুর পরে তার পরিবারে মা, ঠাকুমা, বড় ভাই, বৌদিসহ তার দুই বড় বোন ছিল। বোনরাও টিউশনি করে নিজেদের পড়ালেখার খরচ মিটাত। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় অজয় টিউশনি করে নিজের পড়াখেলার খরচ মিটিয়ে পরিবারকেও সাহায্য করত। তখন তার বড় বোন ও ভাইও সহযোগিতা করতো। তাকে অনেক প্রতিকুল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলেও কখনো না খেয়ে বা কষ্টে দিন কাটাতে হয়নি। টিউশনির অর্থ জমিয়ে তিনি ছোটখাটো ব্যবসাও করেছে সেই উচ্চ মাধ্যমিকে থাকা অবস্থায়!
উচ্চ মাধ্যমিকে পাশ করার পরে তাকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। যারা তাকে কাছ থেকে দেখেছে তারাই কেবল বিষয়টি জানেন। অজয় কুন্ডু বাংলা সাহিত্য নিয়ে স্নাতক