বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি।।
বরিশাল আদালতে মামলার হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার সময় মামলার বাদী এক কাঠ ব্যবসায়ীকে মারধর, টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোজাহিদুল হক মুরাদ (৪৫) বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ভুক্তভোগী মুরাদ বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় কাঠ ব্যবসায়ী। তার ব্যবসা পরিচালনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল বলে জানা গেছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, পূর্ববিরোধের জেরে গত ২ মে ২০২৬ তারিখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বানারীপাড়া থানায় জি.আর. মামলা নং-৮৮/২০২৬ দায়ের করেন মুরাদ।
পরবর্তীতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তার অনুপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন গাছ কেটে আনুমানিক ৩৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের কাঠ ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বাদীর পরিবারের সদস্যদেরও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মোজাহিদুল হক মুরাদ বরিশাল বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় এম.পি. মামলা নং-৭/২০২৬ (বানারীপাড়া) দায়ের করেন।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন—মো. একরামুল সিকদার, মো. ইমরান সিকদার, মাইনুল সিকদার, আজিজুর রহমান সিকদার ও এনামুল সিকদারসহ আরও কয়েকজন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মামলার ধার্য তারিখে হাজিরা দিতে আদালতে যান তিনি। হাজিরা শেষে দুপুর আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে আদালতের প্রধান ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় অভিযুক্তরা তার পথরোধ করেন। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া এবং জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
তার ডাক-চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং আদালত ভবনের ভেতরে নিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় মামলা তুলে না নিলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
মুরাদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের অব্যাহত ভয়ভীতি ও হুমকির কারণে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তারা বানারীপাড়া উপজেলা ছেড়ে বর্তমানে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে বসবাস করছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।