
মোঃ হেমায়েত হোসেন খান,নিউজ ডেস্ক মাদারীপুরঃ-
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় এক গৃহবধূর গোসলের দৃশ্য এবং স্বামী-স্ত্রীর একান্ত মুহূর্তের দৃশ্য মোবাইলে গোপনে ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামী রাসেল চৌকিদার বাদী হয়ে অভিযুক্ত মানিক সরদারের বিরুদ্ধে কালকিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,অভিযুক্ত মানিক সরদার (৩৮) কালকিনি পৌর এলাকার দক্ষিণ মজিদবাড়ী গ্রামের সোবাহান সরদারের ছেলে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মানিক সরদার পলাতক রয়েছে বলে জানা যায়।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মানিক সরদার ও বাদী রাসেল চৌকিদার একেই এলাকায় পাশাপাশি বসবাস করেন। গত ২৪ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে বাদীর স্ত্রী নিজ বাসার পুরাতন টিনের ওয়াশরুমে গোসল করার সময় অভিযুক্ত মানিক কৌশলে তার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। শুধু তাই নয়, ওইদিনই গভীর রাতে অভিযোগের বাদী রাসেল চৌকিদার ও তার স্ত্রীর একসাথে ঘুমানোর দৃশ্যও একই ভাবে মোবাইলে ধারণ করেন।
পরবর্তীতে ওই গোপন ভিডিও ভুক্তভোগী গৃহবধূকে দেখিয়ে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেওয়া শুরু করেন অভিযুক্ত মানিক সরদার। পাশাপাশি ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে প্রতিনিয়ত ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে বাদীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত মানিক সরদার জানালার গ্রিল ভেঙে ঘরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ সময় গৃহবধূর ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত মানিক পালিয়ে যায়। অভিযুক্ত তার মনের ইচ্ছা পূরণ করতে না পেরে যাওয়ার সময় তিনি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও সুযোগ পেলে খুন করার হুমকি প্রদান করেন।
এবিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, অভিযুক্ত মানিক সরদার গাঁজা,ইয়াবাসহ এলাকায় চুরি,ছিনতাই এবং নারীদের গোসলের ভিডিও ধারন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নারীদের বিভিন্ন ভাবে ব্ল্যাকমেইল করে আসছে। অভিযুক্ত মানিক সরদারের নামে চুরি,ছিনতাই এবং গাঁজা ইয়াবাসহ একাধিক মামলা রয়েছে তার।
এ বিষয়ে কালকিনি থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, এঘটনাটি আমাকে একজন গণমাধ্যমকর্মী ফোনে জানানোর সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বামী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন; এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।