
এ, এস, মামুন, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আগাম আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের আলোচনায় উঠে এসেছে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, টরকী বন্দর বণিক সমিতির সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক শরীফ সাহাবুব হাসানের নাম।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও ভোটারদের একটি অংশের মতে, রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন শরীফ সাহাবুব হাসান। তাঁর সাংগঠনিক তৎপরতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক যোগাযোগের কারণে বার্থী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তাঁকে নিয়ে আলোচনা চলছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও এলাকায় পরিচিতি রয়েছে তাঁর। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসাসেবায় সহযোগিতা এবং মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা তৈরির মতো কার্যক্রমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন। সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগেও তাঁর অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উন্নয়ন ও জনসেবাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শরীফ সাহাবুব হাসানের পক্ষ থেকে নাগরিক সেবা, স্বচ্ছতা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, কৃষি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে ইউনিয়ন পরিষদের সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার অঙ্গীকার রয়েছে।
নাগরিক সেবা ও স্বচ্ছতা: জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু সনদ ও নাগরিক সনদসহ প্রয়োজনীয় সেবা দ্রুত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি ভাতা, সহায়তা ও ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং বয়স্ক, মাতৃত্বকালীন ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপ্তিতে যোগ্য ব্যক্তিদের সহায়তা করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান: মাদক, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে পরিকল্পনায়। পাশাপাশি আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিরাপদ ইউনিয়ন গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন: ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ এবং সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুন্নত ও দুর্গম এলাকার সড়ক উন্নয়ন, নতুন রাস্তা পাকা করা এবং গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থাকে টেকসই করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন: মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির ব্যবস্থা, শিশুদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিবেশ তৈরি এবং প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ সহায়তার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষা: কৃষকদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে সহযোগিতা, কৃষিপণ্য ও কৃষি উপকরণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ এবং কৃষিকাজে পর্যাপ্ত পানির প্রবাহ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তা: ইভটিজিং, মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চুরি-ছিনতাই রোধে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
জবাবদিহি ও সুশাসন: প্রতি তিন মাস অন্তর উন্মুক্ত জনসভার আয়োজন, প্রতিটি ওয়ার্ডের উন্নয়ন বাজেট জনগণের সামনে প্রকাশ, নাগরিকদের মতামতের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার প্রকল্প নির্বাচন এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
ভোটারদের প্রত্যাশা উন্নয়ন ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব
বার্থী ইউনিয়নের স্থানীয়দের মতে, ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাঁদের প্রত্যাশা, যিনিই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন, তাঁকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থেকে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, শরীফ সাহাবুব হাসান নির্বাচনে অংশ নিলে তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে। তবে নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী কারা হবেন, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত, প্রার্থীদের প্রস্তুতি এবং ভোটারদের সমর্থনের ওপর।
এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হওয়ায় বার্থী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আনুষ্ঠানিক প্রচারণার সময় আসেনি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আগাম আলোচনা ও জনমত তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কাকে বেছে নেবেন, তা নির্ধারিত হবে নির্বাচনের মাঠের পরিস্থিতি, প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা এবং তাঁদের উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়নযোগ্যতার ভিত্তিতে।