
মোঃ সোহেল রানা রাজশাহীঃ-
রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলখ্যাত তানোর উপজেলায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা, সাধারণ মানুষের হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদান এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খান। কর্মক্ষেত্রে তাঁর দায়িত্বশীল ভূমিকা ও প্রশাসনিক দক্ষতায় উপজেলা জুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে তাঁর উন্নয়নমূলক সাফল্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই তিনি সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করছেন। তানোর উপজেলা প্রশাসনকে একটি জবাবদিহিমূলক ও ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন।
উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ:
হয়রানিমুক্ত নাগরিক সেবা: দাপ্তরিক কাজে মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে এখন যেকোনো সাধারণ মানুষ সহজেই সরাসরি ইউএনও অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বাস্তবায়ন: ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম এবং অসচ্ছলদের জন্য সামাজিক সুরক্ষামূলক ভাতা ব্যবহারে জালিয়াতি রোধ করা হয়েছে। সরেজমিনে তদারকির মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র ও সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত নিশ্চিত করা হয়েছে।
কৃষি ও বরেন্দ্র উন্নয়ন: খরাপ্রবণ এই অঞ্চলের কৃষকদের সেচ সুবিধা ও সার-বীজের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে তিনি মাঠপর্যায়ে কঠোর মনিটরিং বজায় রেখেছেন। ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে জোর ভূমিকা পালন করছেন।
অবকাঠামো সংস্কার ও তদারকি: তানোর উপজেলার গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সংস্কার এবং ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক মানোন্নয়নে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়মিত সরেজমিন পরিদর্শন করছেন। এতে কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং স্থবিরতা দূর হয়েছে।
তানোরের সুশীল সমাজ ও সেবাগ্রহীতারা জানান, প্রশাসনিক নানা প্রতিকূলতা এবং শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও ইউএনও নাঈমা খানের নিরলস কর্মপ্রচেষ্টা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার কারণে তানোর উপজেলা প্রশাসন আজ জনগণের বিশ্বস্ত আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।
তানোর উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে তাঁর এই ধারাবাহিক উন্নয়নমুখী ও সততাভিত্তিক পদক্ষেণ অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।