1. admin@protidinercrime.com : admin :
  2. protidinercrime@gmail.com : প্রতিদিনের ক্রাইম ডেস্ক : প্রতিদিনের ক্রাইম ডেস্ক
‎গ্রেপ্তারের নির্দেশের পরও অধরা জাহাঙ্গীর, প্রকাশ্যে চলাফেরা নিয়ে প্রশ্ন - Protidiner Crime - প্রতিদিনের ক্রাইম
[english_date]| [bangla_date]| [bangla_season]| [bangla_day]| [bangla_time]|
সংবাদ শিরোনামঃ
মাদারীপুরে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা ও ছানি ক্যাম্প:চিকিৎসাসেবা পেলেন ১৫ শতাধিক দরিদ্র মানুষ ‎গ্রেপ্তারের নির্দেশের পরও অধরা জাহাঙ্গীর, প্রকাশ্যে চলাফেরা নিয়ে প্রশ্ন গৌরনদীতে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বিজিবি কর্তৃক রাজশাহী সীমান্ত অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য জব্দ দেবীগঞ্জে মাদক ও স্মার্টফোন আসক্তিকে শিক্ষার্থীদের ‘লাল কার্ড’ নড়াইলের কালিয়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় খেলার মাঠগুলোকে উপযোগী করা হবে – এমপি খোকন তালুকদার নড়াইলের কালিয়ায় ইজিবাইক ও মোটর সাইকেল এর সংঘর্ষে নিহত-১ আগৈলঝাড়ায় খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে তথ্যসেবাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব করা হবে – তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

‎গ্রেপ্তারের নির্দেশের পরও অধরা জাহাঙ্গীর, প্রকাশ্যে চলাফেরা নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

 

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ-

‎মাদক মামলার আসামি জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশের অভিযানের পরও কেন অধরা?

‎ডিআইজির নির্দেশের পরও অধরা জাহাঙ্গীর আলম, স্থানীয়দের নানা অভিযোগ

‎রাজশাহীতে মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান চললেও এর বিস্তার কমছে না। একদিকে গ্রেফতার ও মাদক উদ্ধারের পরিমাণ বাড়ছে, অন্যদিকে আদালতের টেবিলে জমছে বিচারাধীন মামলার পাহাড়। গ্রেফতারের কিছুদিন পরই আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এই ‘গ্রেফতার ও জামিনের চক্কর’ মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে কার্যত অকার্যকর করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৯ হাজার ৩৫৫টি এবং জেলা ও দায়রা জজসহ অন্যান্য আদালতে আরও ৩ হাজার ৬০টি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীর বিভিন্ন আদালতে মোট বিচারাধীন মাদক মামলার সংখ্যা ২৫ হাজার ৬৭১টিরও বেশি। সাক্ষীদের অনুপস্থিতি, তদন্তে বিলম্ব এবং পুলিশ সদস্যদের ঘন ঘন বদলির কারণে বিচার প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ধীর হয়ে পড়েছে। ফলে পুলিশ মাদকসহ অপরাধীদের ধরলেও বছরের পর বছর রায়ের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

‎চলতি বছরের এপ্রিল, মে ও জুন—এই তিন মাসে রাজশাহী জেলা পুলিশ ও আরএমপি এলাকায় মাদক সংক্রান্ত মোট ৪৮২টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় ৬৭৪ জন আসামির মধ্যে ৫৮৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১৭ কেজি গাঁজা, সাড়ে ১০ হাজারেরও বেশি পিস ইয়াবা, প্রায় ৭ হাজার পিস নিষিদ্ধ ট্যাবলেট এবং ২ হাজার ৭০০ বোতলেরও বেশি ফেনসিডিল ও অ্যালকোহল। এসবের আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি টাকারও বেশি। ছয় মাসের সামগ্রিক হিসাবে প্রায় এক হাজার মাদক মামলায় ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

‎সম্প্রতি ২১ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী বিশেষ অভিযানে রাজশাহী জেলা পুলিশ বিপুল পরিমাণ দেশীয় মদ, ১১৩টি ইয়াবা ও ১৯০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে। এতে ৫ জনসহ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন জানান, জেলায় নিয়মিত অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “পুলিশের দায়িত্ব আসামিকে আটক করে আইনের আওতায় নেওয়া। শাস্তি দেওয়া বিচার বিভাগের বিষয়।

‎আরএমপির মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রফিকুল রহমান বলেন, মাদক কারবারিদের নিখুঁত তালিকা তৈরি করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে অনেকের বিরুদ্ধে ১৫টি পর্যন্ত মামলা থাকা সত্ত্বেও তারা জামিনে মুক্ত হয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাইমুল হাছান জানান, মাদক কারবারিদের অর্থ সরবরাহ বন্ধ ও বিপুল সম্পদের মালিকদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‎এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে আলোচিত নাম গোদাগাড়ীর মাদারপুর মহল্লার জাহাঙ্গীর আলম। তাকে হিরোইন ও ইয়াবা মাফিয়া হিসেবে পরিচিত এবং থানার তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর ছত্রছায়ায় হেরোইন ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি খোলস বদলে প্রকাশ্যে আসেন এবং বর্তমানে বিএনপির পদধারী হিসেবে পরিচয় দেন।

‎জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী থানায় ২০০৮, ২০১০ ও ২০১৪ সালে তিনটি মাদক ও অস্ত্র মামলা এবং নারায়ণগঞ্জ ও যশোরে আরও দুটি মাদক মামলা রয়েছে। ২০১০ সালের দিকে মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ার পর সাহাব্দিপুর থেকে অবৈধ পিস্তল ও হেরোইনসহ গ্রেফতার হন। পরে নারায়ণগঞ্জে ইয়াবার চালান এবং ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর যশোরে র‌্যাবের অভিযানে প্রায় ১ কেজি হেরোইনসহ গ্রেফতারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৪ সালের এক প্রতিবেদনে তাকে গোদাগাড়ীর পুলিশের তালিকায় দ্বিতীয় শীর্ষ হেরোইন ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

‎মাদক ব্যবসার আড়ালে তিনি বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। মাদারপুরে প্রায় দুই বিঘা জমির ওপর তিন কোটি টাকার বিলাসবহুল বাড়ি, কোটি টাকার গরু-মহিষের খামার, চার কোটি টাকার ছয়টি ট্রাক, রাজশাহী শহরে ফ্ল্যাট, শিরোইল কলোনিতে জমি, আরডিএর প্রান্তিক এলাকায় ছয় কাঠা প্লট এবং তিনটি গাড়ি রয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশ তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।

‎৩০ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘মাদকমুক্ত থানা গড়ার লক্ষ্যে’ মতবিনিময় ও কমিউনিটি পুলিশিং সভায় ডিআইজিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মঞ্চের সামনে হাজির হন জাহাঙ্গীর। একজন চিহ্নিত মাদক কারবারির এমন উপস্থিতিতে অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েন। সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি রাজশাহী রেঞ্জের বিগত  ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানের নজরে আসে। তিনি তাকে যেকোনো মূল্যে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। সার্কেল এসএসপির নেতৃত্বে মাদারপুরের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সহকারী পুলিশ সুপার মির্জা মো. আব্দুস ছালাম জানান, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তিনি পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। তল্লাশিতে কোনো অবৈধ বস্তু পাওয়া যায়নি। গোদাগাড়ী থানার ওসি আতিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

‎তবুও ২ আগস্ট ২০২৬-এ জাহাঙ্গীরকে পুলিশের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। রাজশাহী শাহমাখদুম বিমানবন্দরে রাজশাহী  নেসকো চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল  শরীফ উদ্দিনকে বরণ করতে পুলিশের উপস্থিতিতে ফেসবুক লাইভ ও আনন্দ উপভোগ করতে দেখা যায়। অভিযানের পরেও মাদারপুরের বাসায় তার নিয়মিত আসা-যাওয়া চলমান বলে অভিযোগ।

‎রাজশাহী বার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ও সিনিয়র আইনজীবী পারভেজ তৌফিক জাহেদী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিলে বিলম্ব বড় দুর্বলতা। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ৯০ শতাংশ মামলায় তা মানা হয় না। ৫ আগস্টের পর অনেক তদন্তকারী পুলিশ সদস্য বদলি হওয়ায় সাক্ষ্য গ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

‎মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে অনেকে মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছেন। একই আসামি বারবার গ্রেফতার হয়ে জামিনে বেরিয়ে আবার মাদক কারবারে জড়ানোর এই দুষ্টচক্র ভাঙতে না পারলে মাদক নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলমসহ শীর্ষ কারবারিদের দ্রুত গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। গোদাগাড়ী থেকে নগরীর অলিগলি পর্যন্ত অভিযান চলছে, কিন্তু জামিনের ফাঁকফোকর ও বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা মাদকের কারবার থামাতে পারছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved ©2024 protidinercrime.com