
প্রতিদিনের ক্রাইম নিউজ ডেস্ক বরিশাল গৌরনদীঃ-
সততা, নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে বরিশালবাসীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন বরিশাল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম। দীর্ঘ ২ বছর ১ মাস ১৩ দিনের কর্মজীবনের পর দায়িত্বের শেষ প্রান্তে এসে বিদায়বেলায় তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ।
সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে তার আন্তরিকতা, সময়ানুবর্তিতা ও কর্মদক্ষতা প্রশংসা কুড়িয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও জনগণের সেবাকে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
চাকরিজীবনের প্রথম পোস্টিং হিসেবে মুলাদী উপজেলায় চার মাস দায়িত্ব পালন করেন আজহারুল ইসলাম। পরবর্তীতে তৎকালীন কমিশনার শওকত আলীর বিশেষ মূল্যায়নে বরিশাল সদর উপজেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়ন পান তিনি। শুরুতে অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত থাকলেও পরবর্তীতে বরিশালের মানুষ ও কর্মস্থলের প্রতি তার গভীর মমতা তৈরি হয়।
এমনকি বরিশালে যোগদানের মাত্র তিন মাসের মাথায় ঢাকায় বদলির আদেশ হলেও বরিশালবাসীর ভালোবাসার টানে তিনি সেই সময় এ কর্মস্থলেই থেকে যান।
দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে গভীর রাতে কীর্তনখোলা নদীতে অভিযান পরিচালনার স্মৃতিও তার কর্মজীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে থাকবে। চ্যালেঞ্জিং ও রোমাঞ্চকর সেই সময়গুলোর কথা স্মরণ করে তিনি জানান, বরিশাল ছাড়ার পর এসব স্মৃতি তিনি গভীরভাবে অনুভব করবেন।
বরিশালের গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই কর্মকর্তা। দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমের বিভিন্ন অভিযোগ, প্রশ্ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি।
বিদায়বেলায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছেও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আজহারুল ইসলাম। নামজারি শুনানিসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ততার কারণে কখনো কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কেউ প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকলে, সেজন্য তিনি নগরবাসীর কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
বরিশালের মাটি ও মানুষের আতিথেয়তা এবং ভালোবাসার কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত এই কর্মকর্তা বলেন, সম্মানের সঙ্গে বিদায় নিতে পারায় তিনি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ।
দীর্ঘ কর্মকাল শেষে বিদায়ের মুহূর্তে বরিশালবাসীর ভালোবাসা ও শুভকামনা যেন আজহারুল ইসলামের কর্মজীবনের অর্জনকেই আরও অর্থবহ করে তুলেছে। বরিশালের মানুষের সঙ্গে তার তৈরি হওয়া আন্তরিক সম্পর্ক ও কর্মজীবনের নানা স্মৃতি দীর্ঘদিন স্মরণে থাকবে।
তার পরবর্তী কর্মস্থল ও কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেছেন বরিশালবাসী।