1. admin@protidinercrime.com : admin :
  2. protidinercrime@gmail.com : প্রতিদিনের ক্রাইম ডেস্ক : প্রতিদিনের ক্রাইম ডেস্ক
আট শ্রমিককে ঘিরে ইন্দো-বাংলায় চরম অচলাবস্থা, মুখোমুখি মালিক-শ্রমিক-কর্মকর্তা - Protidiner Crime - প্রতিদিনের ক্রাইম
[english_date]| [bangla_date]| [bangla_season]| [bangla_day]| [bangla_time]|
সংবাদ শিরোনামঃ
আট শ্রমিককে ঘিরে ইন্দো-বাংলায় চরম অচলাবস্থা, মুখোমুখি মালিক-শ্রমিক-কর্মকর্তা আমতলীতে পুলিশের অভিযানে ১২১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ মধুপুরে ৫০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগে ৮ বছরের শিশুকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন, মামলা দেবীগঞ্জে আদালতের স্থিতাবস্থা নির্দেশের মধ্যেই বাড়িতে হামলার অভিযোগ,, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তিন বন্ধুর,ঢাকা বরিশাল মহাসড়কে একসঙ্গে নিভে গেল তিনটি স্বপ্ন গৌরনদীতে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত  আগৈলঝাড়ায় পৃথক দুটি অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার গৌরনদীতে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান ও খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান। গৌরনদীতে ধর্ষণ মামলার বাদীকে আপসে রাজি করাতে চাপ, পাল্টা চাঁদাবাজির অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা বাকেরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর ভ্যানচালক হত্যা, মূল পরিকল্পনাকারী সুমন শিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৮

আট শ্রমিককে ঘিরে ইন্দো-বাংলায় চরম অচলাবস্থা, মুখোমুখি মালিক-শ্রমিক-কর্মকর্তা

প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

 

প্রতিদিনের ক্রাইম নিউজ ডেস্ক বরিশাল গৌরনদীঃ-

একদিকে উৎপাদন চালুর প্রস্তুতি, অন্যদিকে কারখানার প্রধান ফটক আটকে শ্রমিকদের অবস্থান—দুই পক্ষের টানাপোড়েনে ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে বরিশালের দীর্ঘদিনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পরিস্থিতি। প্রায় পাঁচ দশক ধরে ওষুধ উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানটিতে শ্রমিক-কর্মকর্তা ও মালিকপক্ষের বিরোধ এখন আট শ্রমিককে ঘিরে নতুন মাত্রা পেয়েছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে মালিকপক্ষ পুনরায় উৎপাদন শুরুর উদ্যোগ নিলেও কারখানার প্রবেশপথে শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে সেই উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে কারখানা প্রাঙ্গণে মালিকপক্ষ, শ্রমিক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বিরোধের কেন্দ্রে আট শ্রমিক

বর্তমান অচলাবস্থার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু আট শ্রমিককে ঘিরে ওঠা অভিযোগ। মালিকপক্ষের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ করা হবে।

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএফএম আনোয়ারুল হক সাব্বির বলেন, শ্রমিক পাওয়া গেলেও কর্মকর্তা ছাড়া একটি কোম্পানি পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন—অভিযুক্ত আটজনের একজনও প্রতিষ্ঠানে থাকলে তারা দায়িত্ব পালন করবেন না।

অন্যদিকে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, আটজনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও বাকি সাতজন নির্দোষ। তাই অন্তত ওই সাতজনকে কাজের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করে জানান, ওই সাতজনকে কাজে ফিরিয়ে না নিলে অন্য শ্রমিকরাও কাজে ফিরবেন না।

বৈঠক শেষে আবারও ফটকে অবস্থান

শ্রম দপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্যোগে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের আলোচনায় বসানো হলেও প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়েও তৈরি হয় জটিলতা। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ডা. মনীষা চক্রবর্তী অথবা সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল আলমকে প্রতিনিধি করার দাবি ওঠে। তবে মালিকপক্ষের অবস্থান ছিল, আলোচনায় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদেরই প্রতিনিধি হিসেবে থাকতে হবে।

শেষ পর্যন্ত জসিমউদ্দীনের নেতৃত্বে তিন শ্রমিক আলোচনায় অংশ নেন। বৈঠকে তারা সাত শ্রমিককে কাজে ফেরানোর দাবি জানান।

অন্যদিকে মালিকপক্ষ আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধের ঘোষণা দেয় এবং পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা জানায়।

কিন্তু সমঝোতা না হওয়ায় আলোচনা শেষে শ্রমিক প্রতিনিধিরা সহকর্মীদের কাছে ফিরে যান। এরপর আবারও কারখানার প্রধান প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে দাবির পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের। সন্ধ্যার পরও সেখানে শ্রমিকদের অবস্থান অব্যাহত ছিল।

কী থেকে শুরু বিরোধ?

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, গত ১০ সেপ্টেম্বর উৎপাদন বিভাগের এক শ্রমিককে কাজের নির্দেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক জুনিয়র কর্মকর্তার সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তাকে মাথায় আঘাত করার অভিযোগ ওঠে।

পরে ওই কর্মকর্তা বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

কর্মকর্তাদের দাবি, এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে অভিযুক্ত শ্রমিককে কারখানার ভেতরে নিয়ে আসেন।

পরদিন প্রতিষ্ঠানের ৩৫ জন কর্মকর্তা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে কর্মক্ষেত্রে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

তাদের অভিযোগ, কোনো শ্রমিককে কাজের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হলে একদল শ্রমিক একত্রিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। এতে প্রতিষ্ঠানে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শ্রমিকদের অভিযোগও ভিন্ন

তবে শ্রমিকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন কাজ করলেও অনেক শ্রমিকের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র নেই। বেতন-ভাতা নিয়েও জটিলতা রয়েছে। একজন শ্রমিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট জুনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এ প্রশ্নও তুলেছেন তারা।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, তাদের ন্যায্য পাওনা, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্রসহ শ্রম আইন অনুযায়ী অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আট শ্রমিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের কাজে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

শ্রমিক নেতা শহীদুল আলমের দাবি, প্রতিষ্ঠানে মোট ৭০ জন শ্রমিক রয়েছেন। তবে মালিকপক্ষের দাবি, এর মধ্যে ৫৩ জন ইতোমধ্যে কাজে যোগ দিয়েছেন।

ফটকে প্রতীকী অনশন

সোমবার দুপুরে কারখানার প্রধান প্রবেশপথে ‘ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে শ্রমিক নেতা জসিমউদ্দীনের নেতৃত্বে প্রতীকী অনশন করেন কয়েকজন শ্রমিক। সেখানে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের শহীদুল আলম এবং বাসদ নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তীসহ কয়েকজন নারী শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।

ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত আন্দোলন নয়। শ্রমিকদের সঙ্গে অন্যায় হলে তিনি তাদের পাশে দাঁড়ান। তার দাবি, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্রসহ শ্রম আইন অনুযায়ী অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাক—এমনটা তারা চান না। মালিক, শ্রমিক ও কলকারখানা অধিদপ্তরের যৌথ আলোচনার মাধ্যমেই ন্যায়সংগত সমাধান হওয়া উচিত।

শ্রম দপ্তরের হস্তক্ষেপেও কাটেনি জট

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার দুপুরের পর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক সাবেকুন নাহার, পরিদর্শক শাহাবুদ্দিন এবং শ্রম কর্মকর্তা মফিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান।

তারা প্রথমে আন্দোলনরত শ্রমিক ও ডা. মনীষা চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে কারখানার ভেতরে গিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার সময় একদল নারী শ্রমিক কর্মকর্তাদের ঘিরে ধরে জানান, তারা কাজ করতে চান। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলে তারা কাজে ফিরতেও প্রস্তুত বলে জানান।

কিন্তু আট শ্রমিককে নিয়ে অবস্থান থেকে দুই পক্ষই সরে না আসায় শেষ পর্যন্ত বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি।

এর আগেও সড়ক অবরোধ

এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে শ্রমিকদের একটি অংশ ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান ফটকের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। বন্ধ কারখানা চালু, বকেয়া বেতন পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়। সেখানে সংহতি জানান ডা. মনীষা চক্রবর্তী।

এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে মালিকপক্ষ উৎপাদন চালুর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু কারখানার প্রবেশপথে শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে আবারও জটিলতা তৈরি হয়।

এখন সামনে বড় প্রশ্ন

ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের বর্তমান বিরোধ এখন আর শুধু বকেয়া বেতন কিংবা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র, কর্মক্ষেত্রের শৃঙ্খলা, কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা এবং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের প্রশ্ন।

মালিকপক্ষ বলছে, শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মপরিবেশের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে শ্রমিকদের বক্তব্য, তারা কাজ করতে চান; তবে সহকর্মীদের বাদ দিয়ে কাজে ফিরতে চান না।

এদিকে শ্রমিকদের কয়েকজন শ্রম দপ্তরের কর্মকর্তা মফিদুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের একজন শ্রমিকদের পক্ষে এবং অন্যজন মালিকপক্ষের স্বার্থে অবস্থান নিচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদনে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

শ্রমিকদের পক্ষ থেকে শ্রম আইনের ধারা ২৬-এর বিষয়টিও সামনে আনা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থায়ী শ্রমিকের চাকরি অবসানের ক্ষেত্রেও আইনে নির্ধারিত নোটিশ বা তার পরিবর্তে নির্ধারিত মজুরি দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এই আইনি বিধান বর্তমান ঘটনায় কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত পর্যালোচনার বিষয়।

সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ দশকের পুরোনো এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অচলাবস্থা এখন একটি বড় প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়েছে—শ্রমিকের অধিকার, কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা এবং প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন—এই তিনটি বিষয়কে সমন্বয় করে কীভাবে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনা যাবে।

বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু শ্রমিক ও কর্মকর্তারাই নয়, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত পরিবহন, প্যাকেজিং, সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতের মানুষও ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। ফলে দীর্ঘ বৈঠকেও সমাধান না আসার পর এখন দ্রুত গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved ©2024 protidinercrime.com