
মোমিন ইসলাম সরকার,দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ-
দেবীগঞ্জে পৈতৃক সম্পত্তির বিরোধে বেড়া ভাঙচুর, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে দীর্ঘদিনের পৈতৃক সম্পত্তির বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। আদালতে মামলা চলমান থাকা এবং জমি নিয়ে স্থিতাবস্থা (Status quo) বজায় রাখার নির্দেশ থাকার মধ্যেই বাড়ির বেড়া ভাঙচুর, মারধর ও ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দেবীগঞ্জ থানায় চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রহ্লাদ রায় (২৮)।
অভিযোগকারী প্রহ্লাদ রায় উপজেলার ২ নং শালডাঙ্গা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের দিঘলগ্রাম ধ্যানগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা তার আপন কাকা ও কাকাতো ভাই। একই এলাকায় পাশাপাশি বসবাসের কারণে পৈতৃক সম্পত্তি ও বাড়ির ভিটার জায়গা নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
আদালতেও গড়ায় সম্পত্তির বিরোধ
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রহ্লাদ রায় আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর দেবীগঞ্জের সিভিল জজ আদালতের আদেশে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমিতে স্থিতাবস্থা (Status quo) বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের নথিতে নালিশি জমি নিয়ে বিরোধের কারণে জমির অবস্থা পরিবর্তন, স্থাপনা নির্মাণ, মাটি খনন, গাছপালা কর্তন কিংবা জমি হস্তান্তরের মতো কার্যক্রম না করার বিষয়ে বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এরপরই বাড়িতে হামলার অভিযোগ
অভিযোগকারী প্রহ্লাদ রায়ের দাবি, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে অভিযুক্তরা ধারালো ছোরা ও কুড়াল নিয়ে তার বসতবাড়ির সামনে আসেন। তারা বাড়ির বেড়া ভাঙচুর শুরু করলে তিনি বাধা দেন।
এ সময় অভিযুক্তরা তাকে ধাক্কাধাক্কি করে এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভাঙচুরের ঘটনায় তার প্রায় ৩৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রহ্লাদ রায়ের অভিযোগ, তার চিৎকার শুনে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্তরা হাতে থাকা ধারালো ছোরা ও কুড়াল প্রদর্শন করে তাকে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
থানায় লিখিত অভিযোগ ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে দেবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন প্রহ্লাদ রায়। অভিযোগে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া বলেন, “আমি অভিযোগ পেয়েছি। সঠিকভাবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।