
খান রেজাউল করিম, মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ-
মাদারীপুরের শিবচরে এক ডিভোর্সী নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে সংবাদ সম্মেলন করে ভূক্তভূগী মুক্তা পারভিন নামে ওই নারী। তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযুক্ত ইসমাইল মল্লিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন এবং একেই সাথে তার জীবনের নিরাপত্তার দাবি করেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল বিকেলে ডাসার উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
বিভিন্ন সূত্রে জনা গেছে,অভিযুক্ত ইসমাইল মল্লিক মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের খাকছারা এলাকার মৃত্যু আলতাফ মল্লিকের ছেলে, বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার ২ নং সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে বাড়িঘড় করে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন।
ভুক্তভোগী মুক্তা পারভিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইসমাইল মল্লিক তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে কোরআন সপথ করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকার মতিঝিল এলাকার আবাসিক হোটেল এবং বন্ধুর বাসা সহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন (ধর্ষণ) করেন।
মুক্তা পারভিন আরো বলেন,সে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমাকে ব্যবহার করেছে। এখন আমি বিয়ের কথা বললে সে বিয়ে করতে স্পষ্ট ভাবে অস্বীকৃতি জানায় এবং আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। একজন অসহায় নারী হিসেবে আমি আজ সামাজিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরেছি।
ভুক্তভোগী আরো জানান, আমি স্থানীয়ভাবে বিচার না পেয়ে ন্যায়বিচারের আশায় ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ইসমাইল মল্লিকের বিরুদ্ধে মাদারীপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছি। মামলাটি তদন্তের জন্য শিবচর থানায় রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভূক্তভূগী মুক্তা পারভিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ওই প্রতারক ও ধর্ষক ইসমাইল মল্লিকের বিরুদ্ধে ন্যায় বিচারের দাবি জানান।
এবিষয়ে অভিযুক্ত ইসমাইল মল্লিকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ভূক্তভূগীর করা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে অস্বীকার করেন।
তিনি ভূক্তভূগীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা, মূলত ওই নারীর সাথে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল, কিন্তু তাকে আমি ধর্ষন করি নাই।
ওই নারী তার ছোট ভাইকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে আমার কাছ থেকে দশ লাখ টাকা ধার নিয়েছে, এখন আমি পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে সে আমার পাওনা টাকা আত্বসাত করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এবং অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি পাওনা টাকা আদায়ের জন্য মুক্তা পারভিনকে আসামি করে মামলা দিয়েছি।