
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি:-
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবককে ঘর থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট এবং জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আকাশ মীর (৩৪) থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগকারী আকাশ মীর উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বেলুহার গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, গত ২০ অক্টোবর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকার সময় দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল লোক দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তাঁকে মারধর করা হয়। স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর স্ত্রীকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আকাশ মীরের দাবি, এ সময় ঘরে থাকা নগদ এক লাখ টাকা ও এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে যায় অভিযুক্তদের একজন। পরে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি গোয়ালঘরে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গোয়ালঘরে আটকে রেখে তাঁকে লোহার রড দিয়ে পেটানো, বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, প্লাস দিয়ে পায়ের নখ তুলে ফেলার চেষ্টা এবং নাকের ভেতর গরম পানি ঢেলে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে আলী হোসেন স্বপন ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরদিন সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় আকাশকে বাড়ির সামনের রাস্তায় ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় বেলুহার গ্রামের মো. রাজু মীর (৪০), মো. রাকিব মীর (২৮), জয়নাল মীর, শিমুল মীর (৫৫), তাওহীদ ভূঁইয়া (২৫), তরিকুল ভূঁইয়া, বিলাল ভূঁইয়া ও অরুন ভূঁইয়া (৩৮) এবং জালাল ভূঁইয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা এবং পরবর্তী সময়ে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করার কারণে থানায় অভিযোগ দিতে দেরি হয়েছে বলে জানান আকাশ মীর।
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।