
প্রতিদিনের ক্রাইম নিউজ ডেস্ক, বরিশাল গৌরনদীঃ-
নড়াইলে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার অভিযোগে একটি চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ডিভাইসে বিভিন্ন অনলাইন জুয়া ও ই-ট্রানজেকশনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের প্রেস ব্রিফিং সূত্রে জানা যায়, সারাদেশের মতো নড়াইলেও একটি চক্র বিভিন্ন লোভনীয় নাম ও বিজ্ঞাপনের আড়ালে অনলাইন জুয়া এবং প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’, ‘নাহিদ ওয়ার্ড’, ‘কলম প্যাকেজিং’, ‘কাকলী ফার্নিচার’, ‘ইলিশ ভাইয়া চাঁদপুর’ ও ‘অনলাইন বিডি’সহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করার অভিযোগ রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নড়াইল জেলা ডিবি জানতে পারে, লোহাগড়া থানাধীন ঝামারঘোপ বাজারের ‘মা’ ফার্মেসির মালিক ফরহাদ হোসেন প্রধান এজেন্ট হিসেবে তার সহযোগীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
পরে নড়াইল জেলা ডিবির একটি চৌকস দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঝামারঘোপ বাজারের ‘মা’ ফার্মেসিতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অনলাইন জুয়া ও প্রতারণা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মাগুরার মোহাম্মদপুর থানার কলাগাছি গ্রামের আজাদ মোল্যার ছেলে ফরহাদ হোসেন (২৬), নড়াইলের লোহাগড়া থানার লাহুড়িয়া ডহরপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে সজীব হোসেন (৩০), গোবিন্দপাড়া গ্রামের প্রহ্লাদ মজুমদারের ছেলে প্রসেনজিৎ মজুমদার (৩০), চর ঝামারঘোপ গ্রামের মৃত শাহাদাৎ মোল্যার ছেলে জমির মোল্যা (৪৫), মাগুরার মোহাম্মদপুর থানার কলাগাছি গ্রামের মহামিন মোল্যার ছেলে আলাউদ্দিন মোল্যা (২৮), নড়াইলের লোহাগড়া থানার কালিনগর গ্রামের মিন্টুর মোল্যার ছেলে লাহু মিনহাজ (২৪), মাগুরার মোহাম্মদপুর থানার কলাগাছি গ্রামের সাখাওয়াত মোল্যার ছেলে নাজমুল মোল্যা (২৬), একই গ্রামের আজাদ মোল্যার ছেলে ফরিদ হোসেন (২৮) এবং নড়াইলের লোহাগড়া থানার কালিনগর গ্রামের মৃত বীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের ছেলে বিবেক বিশ্বাস (২৫)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ডিভাইসে 1xBet, Melbet, Ck44.Com, F11সহ বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের তথ্য এবং ই-ট্রানজেকশনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় লোহাগড়া থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ১৬, ১৭, ২৫ ও ২৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড অথবা অনূর্ধ্ব পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, অনলাইনে বিভিন্ন লোভনীয় বিজ্ঞাপন ও অফারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোনো বিজ্ঞাপন দেখে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ লেনদেন বা কেনাকাটা না করার জন্য নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নড়াইল জেলা পুলিশ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—অনলাইনে মুখরোচক ও লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখে যেন কেউ প্রতারণার শিকার না হন।