
পলাশ তালুকদার, গৌরনদী বরিশাল প্রতিনিধিঃ-
“পশুর প্রতি মানবিক আচরণেই ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরে”
মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই উৎসবকে ঘিরে যেমন আনন্দ থাকে, তেমনি থাকে মানুষ ও কুরবানির পশুর মধ্যে গড়ে ওঠা এক অদ্ভুত মায়া ও ভালোবাসার সম্পর্ক। কুরবানির পশুকে কেন্দ্র করে গৃহস্থ, খামারি এবং ক্রেতাদের মাঝে বছরের পর বছর ধরে জমে ওঠে নানা স্বপ্ন ও আবেগের গল্প।
ঈদুল আজহার কয়েকদিন আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে শুরু হয় ব্যাপক কেনাবেচা। খামারিরা বছরের পর বছর লালন-পালন করা পশু নিয়ে হাটে যান অনেক আশা নিয়ে। অন্যদিকে কুরবানিদাতারাও অপেক্ষা করেন সাধ্য ও পছন্দ অনুযায়ী একটি ভালো পশু কেনার জন্য। উভয়ের মাঝেই কাজ করে এক ধরনের অজানা অনুভূতি ও প্রত্যাশা।
হাটে যখন ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে দরদাম শেষে লেনদেন সম্পন্ন হয় এবং পশুর রশিটি মালিকের হাত থেকে নতুন মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তখনই সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত। দীর্ঘদিনের সঙ্গী পশুটি যেন পুরোনো মালিককে ছেড়ে যেতে চায় না। অনেক সময় পশুর আচরণেও ফুটে ওঠে বিচ্ছেদের কষ্ট। আর সেই দৃশ্য দেখে খামারির চোখেও দেখা যায় অশ্রু ও মায়ার ছাপ।
কুরবানির জন্য বাড়িতে আনার পর অল্প কয়েকদিনেই পশুর সঙ্গে গড়ে ওঠে নতুন সম্পর্ক। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও পশুটি সহজেই মিশে যায়। কেউ আদর করে খাওয়ায়, কেউ গোসল করায়, কেউবা যত্ন করে সাজিয়ে তোলে। ধীরে ধীরে পশুটিও আপন করে নেয় তার নতুন পরিবেশ ও মানুষগুলোকে।
কুরবানির দিন সকালে পশুটিকে সুন্দরভাবে গোসল করানো হয়, কখনো সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। গলায় মালা পরিয়ে বা রঙিন ফিতা দিয়ে সাজানো হয় অনেক পশুকে। কিন্তু অবুঝ প্রাণীটি বুঝতে পারে না, কিছুক্ষণ পরই আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাকে কুরবানি করা হবে।
ঈদের নামাজ শেষে যখন সবাই কুরবানির প্রস্তুতি নিতে পশুর চারপাশে জড়ো হয়, তখন এক আবেগময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পশু ও মালিক—দুজনের মাঝেই যেন তৈরি হয় এক নীরব অনুভূতি। তবে ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, পশুর প্রতি মানবিক আচরণ, যত্ন ও ভালোবাসা প্রদর্শন করেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কুরবানির পশুর প্রতি সদয়
আচরণ ও যত্ন নেওয়া ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কারণ ইসলাম শুধু কুরবানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা ও মানবিক আচরণের মধ্যেও এর সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে।