
অন্ধকারের সুযোগে মাদকের সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ
জাকির হোসেন, বানারীপাড়া প্রতিনিধিঃ-
সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গেই যেন অন্য এক বানারীপাড়া পৌরশহরে রূপ নেয়। সন্ধ্যার পর পৌর এলাকার বেশ কিছু অংশজুড়ে নেমে আসে গা ছমছমে ও ভুতুড়ে পরিবেশ। পৌরসভার প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে ভেতরের সংযোগ সড়কগুলোর বেশ কিছু ল্যাম্পপোস্টে জ্বলছে না বাতি। মাসের পর মাস সড়কবাতি না থাকায় একদিকে পৌরবাসী নাগরিক সেবার মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে মাদকের সাম্রাজ্য—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কবাতির জন্য বারবার পৌরসভার দায়িত্বশীলদের দ্বারে ধাওয়া করেও কোনো সুরাহা মেলেনি। আবেদনের তিন-চারটি স্তর পার হলেও ল্যাম্পপোস্টে আলোর দেখা মেলে না। তবে অসাধু উপায়ে টাকা মেটালেই অলৌকিকভাবে জ্বলে ওঠে বাতি—এমন অভিযোগও রয়েছে। টাকার বিনিময়ে আলো মিললেও সাধারণ করদাতারা দিনের পর দিন অন্ধকারের শাস্তি ভোগ করছেন বলে দাবি তাদের। পৌর কর্তৃপক্ষের এমন চরম খামখেয়ালিপনা ও দায়িত্বহীনতায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে অন্ধকারের সুযোগে মাদকের রমরমা ব্যবসায় নেমে পড়েছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। পৌরসভার বেশ কয়েকটি সড়ক সন্ধ্যার পর পুরোপুরি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় পথচারী ও স্থানীয়দের জন্য নিরাপত্তার চরম হুমকি তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের চলাচল কমে যাওয়ার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে স্থানীয় মাদক কারবারিরা। অন্ধকার সড়কগুলোতে অবাধে চলে মাদক বেচাকেনা ও সেবনের আড্ডা বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি পরিচালিত এক জনজরিপেও এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রাস্তায় আলো না থাকার পেছনে সরাসরি কাজ করছে শক্তপোক্ত একটি মাদক সিন্ডিকেট। মাদক ব্যবসা নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে এবং আড্ডার নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে নির্দিষ্ট মাসের ‘মাশোয়ারা’ বা মাসোহোরার বিনিময়ে ওইসব ল্যাম্পপোস্টে বাতি না জ্বালানোর ব্যবস্থা করে রেখেছে এই চক্রটি—এমন অভিযোগ তাদের।
এতে জনজীবনে দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে বলে অভিযোগ পৌরবাসী ও আশপাশের মানুষের। একটি আধুনিক পৌরসভার ন্যূনতম নাগরিক অধিকার হলো নিরাপদ সড়ক ও পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা। সড়কবাতি না থাকায় শুধু মাদকের বিস্তারই ঘটছে না, বরং ছিনতাই, চুরি এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের সন্ধ্যার পর একা বের হওয়া বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, পৌরবাসীর করের টাকায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের এমন অপেশাদার আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত সময়ের মধ্যে সবকটি ল্যাম্পপোস্টে বাতি প্রতিস্থাপন, অবৈধ টাকার লেনদেন এবং মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ পৌরবাসী।
পৌরশহরকে অন্ধকারের হাত থেকে মুক্ত করে পুনরায় স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত ও জোরালো হস্তক্ষেপই এখন সময়ের দাবি।