
মোঃ সোহেল রানা রাজশাহীঃ-
রাজশাহীর বাঘায় ধর্মীয় চেতনায় আঘাত হানতে পারে এমন কোন কাজ না করার শর্তে ৫ শ’বছরের ঐতিহ্যবাহী ঈদ মেলার ইজারা সম্পন্ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তারের সভাপতিত্বে দুই সপ্তাহের জন্য ১২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় এ মেলাটি ইজারা পেয়েছেন বাঘা উপজেলা যুবদল নেতা ও রাজশাহী জেলা যুবদলের সদস্য শফিকুল ইসলাম।
মেলা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ঈদের দিন থেকে মাত্র দুই সপ্তাহের জন্য এই উন্মুক্ত মেলা ডাকে ১০ লক্ষ টাকা ব্যাংক ড্রাপের মাধ্যমে ৭৬ জন ঠিকাদার অংশ গ্রহন করেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে বাঘার সমাজ সেবক প্রয়াত আরজ আলীর সন্তান ও যুবদল নেতা শফিকুল ইসলামকে ১২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় এ মেলাটি ইজারা প্রদান করা হয়।
মেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার জানান, বাঘার ঐতিহাসিক হযরত শাহদৌলার মাজার-তথা (ওয়াকফোস্টেট), সুলতান আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ এবং দিঘী ও জাদুঘর-সহ অত্র এলাকায় প্রায় ৫ শ’ বছর পূর্ব থেকে প্রতি বছর রমজান শেষে এখানে সু-বিশাল ঈদের জামাত এবং ঐতিহাসিক ঈদ মেলা ও মাজার কেন্দ্রীক ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
বিগত দিনে এ মেলাটি বড় কলরবে অনুষ্ঠিত হলে ২৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। তবে বর্তমানে বহিরাগত ব্যবসায়ীদের উপস্থিত কমে যাওয়ায় গত বছর ১০ লক্ষ টাকায় এ মেলাটি ইজারা দেয়া হয়। সেই তুলনায় এবার ১২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় এ মেলাটি ইজারা দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, ঈদ মানে আনন্দ। তার সাথে বাড়তি উৎসব ঈদ মেলা। তবে এ মেলা দেশের সব স্থানে হয় না। এ দিক থেকে প্রায় ৫ ‘শ বছর যাবত ঐতিহ্য ধারণ করে চলেছে রাজশাহীর বাঘাবাসী। ঈদের দিন থেকে শুরু হয় এ মেলা। চলে প্রায় দুই সপ্তাহ ব্যাপী। এ মেলায় শুধু বাঘাবাসী নয়, আশ-পাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষের মধ্যে ঈদ আনন্দের সঙ্গে বাড়তি আনন্দের খোরাক যোগায় মাজার কেন্দ্রীক ওরশ মোবারক।
মেলায় বসে সার্কাস,নাগর দোলা, রাডার, ট্রেন ভ্রমণ, দোলনা, হরেক রকমের খেলনা সমাগ্রী, দুর -দুরান্ত থেকে আগত মিষ্টির দোকান সহ নানা রকম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সুশীল সমাজের মতে, ধর্মীয় এ মেলায় বিগত সরকার আমলে অশ্লীলতার নামে জ্যান্ত পুতুল নাচ এবং জুয়ার আসর-সহ ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে অতিরিক্ত টোল আদায়ের নজির রয়েছে। তবে গত গত বছর থেকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই মেলা। ফলে খুশি এ অঞ্চলের ধর্মপ্রান মানুষ। একই সাথে প্রশংশিত হয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ।
এই মেলা ডাকের সময় উপস্থিত ছিলেন বাঘা মাজার কমিটির রইশ খন্দকার আনারুল ইসলাম দিলীন , তাঁর ভাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মনোয়ারুর ইসলাম মামুন, বাঘা উপজেলা সহকারী কমিশিনার ভুমি সাবিহা সুলতানা ডলি, উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান ,বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সেরাজুল হক, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফকরুল হাসান বাবলু, বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম তফি, সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক জাহাঙ্হীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মুকলেছুর রহমান মুকুল, সুরুজ জামান, জেলা ছাত্র দলের আহবায়ক শামিক সরকার ও উপজেলা যুবদল নেতা সালে আহাম্মেদ সালাম-সহ অত্র এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ