
মোমিন ইসলাম সরকার, দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ-
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক। এ সময় ইউএনওর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যকে মারধর করে তার সরকারি অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও জানা গেছে। এ ঘটনায় ওই আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, জ্বালানি তেল নিতে সকালেই ‘মেসার্স জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশনে’ মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। কিন্তু লাইনে থাকা অধিকাংশ চালকের কাছে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ফুয়েল কার্ড, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। যাদের বৈধ কাগজপত্র ছিল তারা তেল নিতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ ইউএনওকে বিষয়টি জানায়।
খবর পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে যান ইউএনও সবুজ কুমার বসাক। তিনি কাগজপত্রবিহীন চালকদের লাইন ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। পরে দুই চালককে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করেন। এরপর হঠাৎ শতাধিক লোকের একটি মিছিল তেল পাম্পে এসে ইউএনও ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ইউএনওর নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক আনসার সদস্যের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আহত ওই আনসার সদস্যকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়দের সহায়তায় পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন ইউএনও। পরে দেবীগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে ইউএনও সবুজ কুমার বসাক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। কাগজপত্রবিহীন চালকদের লাইন ছাড়তে বলায় এবং দুইজনকে জরিমানা করায় হামলার ঘটনা ঘটে। আমার নিরাপত্তাকর্মীর অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালেক বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ওই ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধ থাকবে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।