
মোমিন ইসলাম সরকার,দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ-
সরকারি অর্থে ভবন নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন, প্রশাসনের তদারকি নিয়েও উঠছে নানা অভিযোগ,, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের মল্লিকাদহ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সরকারি অর্থে নির্মিত ভবন রয়েছে, কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে ভবনের দরজায় ঝুলছে তালা। নেই শিক্ষক-শিক্ষিকা, নেই শিক্ষার্থী; দৃশ্যমান নেই নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমও। এ অবস্থায় বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম, অনুমোদন এবং সরকারি অর্থে ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। অথচ সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন। বর্তমানে ভবনটি তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকায় সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে বিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে ভবনটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। তবে বিদ্যালয়ের প্রকৃত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সংখ্যা, নিয়মিত পাঠদান হয় কি না এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
ভবন নির্মাণের আগে কি হয়েছিল যথাযথ যাচাই?
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে ভবন নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছিল? তখন বিদ্যালয়ে কতজন শিক্ষার্থী ছিল? কতজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন? নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চলত কি না? ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল?
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই করা হয়ে থাকলে বর্তমানে একটি সরকারি অর্থে নির্মিত শিক্ষা ভবন কেন তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকবে—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শুধু ভবন নয়, প্রয়োজন সচল শিক্ষা কার্যক্রম
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শুধু ভবন নির্মাণ করলেই শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নিয়মিত পাঠদান এবং একাডেমিক কার্যক্রম। কিন্তু এসবের উপস্থিতি ও কার্যক্রম নিয়ে যদি প্রশ্ন থাকে, তাহলে সরকারি অর্থে অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি অর্থ ব্যয়ের আগে শিক্ষার্থীসংখ্যা, শিক্ষক উপস্থিতি, শিক্ষা কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ভবনটি নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি করা প্রয়োজন।
প্রশাসনের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন
মল্লিকাদহ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সামনে আসায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, বিদ্যালয়টির অনুমোদন ও স্বীকৃতির নথি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর হালনাগাদ তালিকা, উপস্থিতি রেজিস্টার, পাঠদান কার্যক্রমের তথ্য এবং সরকারি অর্থে ভবন নির্মাণের প্রকল্প সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা হোক।
বিশেষ করে ভবন নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন, প্রাক্কলন, বরাদ্দ, কার্যাদেশ, কাজের পরিমাণ, বিল-ভাউচার এবং ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখে প্রকল্পটি বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরকারি অর্থের জবাবদিহি চান এলাকাবাসী
স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম না থাকে এবং ভবন ব্যবহার না হয়, তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল?
তাদের মতে, সরকারি অর্থ জনগণের অর্থ। তাই কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা যাচাই, প্রকল্প অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন—প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
এ অবস্থায় মল্লিকাদহ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনটি কেন তালাবদ্ধ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী কোথায় এবং শিক্ষা কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের স্পষ্ট বক্তব্যও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের বক্তব্য:
এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে সংযুক্ত করা হবে।