
আতাউর রহমান চঞ্চল, বরিশাল গৌরনদীঃ-
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো না এলেও দেশজুড়ে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। এর ব্যতিক্রম নয় বরিশাল জেলার উত্তরের গৌরনদী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বার্থী ইউনিয়ন। তবে এবারের নির্বাচনে অন্য সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এক নতুন মুখ, দীর্ঘদিনের রাজপথের লড়াকু সৈনিক, তরুণ সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী তারিকুল ইসলাম কাফী।
নির্বাচনী মাঠে একাধিক পুরনো ও হেভিওয়েট প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও, সাধারণ মানুষের মন জয় করে জনপ্রিয়তার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন উচ্চশিক্ষিত এই যুবনেতা। কিন্তু কেন বার্থীবাসীর মুখে মুখে এখন শুধু তাঁরই নাম? কেন পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠছেন তিনি? অনুসন্ধান করতে গিয়ে উঠে এসেছে বেশ কিছু চমকপ্রদ ও ব্যতিক্রমী তথ্য।
পট-পরিবর্তনের ঝড়েও অনন্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিঃ
গত ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পট-পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে যখন হাট, ঘাট, বন্দর ও বাজার দখল বা ইজারার হিড়িক লক্ষ্য করা গেছে, তখন বার্থী ইউনিয়নে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তারিকুল ইসলাম কাফী। অনেক নেতার বিরুদ্ধে যখন নীরবে-নিভৃতে চাঁদাবাজি, মাদকের মাসোহারা নেওয়া, সালিশি বাণিজ্য কিংবা থানার দালালি করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠছে, তখন কাফী নিজেকে এসব থেকে সম্পূর্ণ দূরে রেখেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্ষমতার এই পালাবদলের সময়েও তিনি কেবল শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, ক্রীড়া ও একটি স্মার্ট সমাজ গঠনে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন, যা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
রাজপথের লড়াকু নেতৃত্ব ও নির্ভরযোগ্য অভিভাবকত্বঃ
তারিকুল ইসলাম কাফী কেবল বসন্তের কোকিল নন, বরং দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সরাসরি রাজপথে থেকে মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রতিকূল সময়েও জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা। এছাড়া বরিশাল-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন ব্যক্তিত্ব রফিকুল ইসলাম কাজল এবং তারিকুল ইসলাম কাফী। পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং উপর মহলে এই শক্তিশালী সমন্বয়ের কারণে বার্থীবাসীর কাছে কাফী এখন উন্নয়ন ও অধিকার আদায়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম।
“স্মার্ট বার্থী” গড়ার সুদূরপ্রসারী ভিশনঃ
তারিকুল ইসলাম কাফী কেবল একজন প্রার্থী নন, বার্থী ইউনিয়নকে নিয়ে তাঁর রয়েছে এক দূরদর্শী পরিকল্পনা। তিনি স্বপ্ন দেখছেন বার্থীকে একটি প্রযুক্তি-বান্ধব, নিরাপদ এবং আদর্শ “স্মার্ট বার্থী” হিসেবে গড়ে তোলার। সনাতনী প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে ইউনিয়নের টেকসই উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা ডিজিটাল করার এই রূপরেখা সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান সামাজিক সংস্কারঃ
নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই কাফী বার্থী ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে আছেন। যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে সামাজিক আন্দোলন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারে তাঁর অবদান সর্বজনস্বীকৃত। এছাড়া তীব্র তাপদাহে জনসচেতনতা তৈরি কিংবা টিকাদান কর্মসূচির মতো জনকল্যাণমূলক কাজে তাঁর নেতৃত্ব জনগণের মণিকোঠায় তাঁকে স্থান দিয়েছে।
স্বচ্ছ সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অঙ্গীকারঃ
সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—স্থানীয় সালিশি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা। কাফী ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি নির্বাচিত হলে প্রতিটি ওয়ার্ডে শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জবাবদিহিতামূলক বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা প্রভাবমুক্ত এই সালিশি ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি সাধারণ ভোটারদের মনে বড় ধরনের আস্থার জায়গা তৈরি করেছে।
পারিবারিক ঐতিহ্য ও উচ্চশিক্ষাঃ
ধানোবা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও সুপরিচিত হাওলাদার পরিবারের সন্তান তারিকুল ইসলাম কাফী। তাঁর পিতা ছিলেন একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান সরকারি কর্মকর্তা। উচ্চশিক্ষিত কাফী নিজেও কর্মজীবনে অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন। কোনো ধরনের কলঙ্ক বা পেশী শক্তির রাজনীতিতে যুক্ত না থাকায়, সাধারণ মানুষ তাঁর মাঝে একজন নিরাপদ অভিভাবক খুঁজে পাচ্ছেন।
২৪-পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বার্থীর মানুষ এখন একটি নিরপেক্ষ, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় আছেন। আর এই মুক্ত পরিবেশে সাধারণ ভোটাররা এমন একজনকে নেতৃত্বে চান যিনি প্রচলিত বৃত্তের বাইরে এসে বার্থীকে নতুন দিন উপহার দেবেন।
স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুরনো প্রার্থীদের অতীতের সমীকরণ ছাপিয়ে বার্থীবাসী এখন মেধা, যোগ্যতা, ত্যাগ ও সততাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। আর এই সবকটি গুণাবলী নিয়ে বার্থী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরিবর্তনের মূল কাণ্ডারি হিসেবে জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার একমাত্র নাম এখন তারিকুল ইসলাম কাফী।