
মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানঃ-
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য অধিগ্রহণকৃত এলাকায় শত শত গাছ লুটের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন রাজশাহী সবুজ সংহতি। রোববার সকালে ক্যাম্পাস পরিদর্শন শেষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সকালে সবুজ সংহতি এবং বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বাজেসিলিন্দা এলাকায় রামেবির প্রকল্পস্থল পরিদর্শন করেন। উপস্থিত ছিলেন, সবুজ সংহতির আহ্বায়ক ও নদী-পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দীকী, জুলাই-৩৬ পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদ জামাল কাদেরী, মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক ওয়ালিউর রহমান বাবু, নৃবিজ্ঞানী শহিদুল ইসলাম, ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ-ইয়্যাস সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমানসহ আরও অনেকে।
তারা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো করতে হবে যতটা সম্ভব গাছ রক্ষা করে। সেই পরিকল্পনার আগেই দরপত্র ছাড়াই এবং বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া গাছ লুট দুঃখজনক। এটি পরিবেশ ধ্বংসের বড় অপরাধ।”
সবুজ সংহতি সাত দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এগুলো হলো-
ক্যাম্পাস এলাকা সিলগালা করে প্রমাণ সংরক্ষণ, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ইউজিসি, স্থানীয় প্রশাসন, আইন বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ আদায়, অবৈধভাবে কাটা কাঠ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা, ক্ষতির বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর পরিকল্পনা, ভবিষ্যতের কাজ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের শর্তে করা, সিসিটিভি, গার্ড লগবুক ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু, গাছ অপসারণের সিদ্ধান্ত, টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডার জনসমক্ষে প্রকাশ এবং নাগরিক পর্যবেক্ষণ দল গঠন।
রাজশাহী নগরের বাজেসিলিন্দা এলাকায় সবুজ পরিবেশে ২ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রামেবির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ হচ্ছে। জেলা প্রশাসন জমি অধিগ্রহণের পর গত বছর বিশ্ববিদ্যালয় ওই এলাকা বুঝে পায়। গত ১০ মাস ধরে ধীরে ধীরে গাছ কাটা হচ্ছিল, তবে সম্প্রতি ব্যাপকভাবে ট্রলিভর্তি কাঠ সরানো শুরু হয়। দরপত্র ছাড়াই গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে। ১৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বালুভরাটের কাজ পাওয়া ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হোসাইন কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। প্রতিষ্ঠানটি ২১ আগস্ট অভিযোগ অস্বীকার করে জবাব দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র গাছ লুট করেছে। অভিযোগ ঢাকতে প্রথম থেকেই প্রচার চালানো হয় যে বালুভরাটের ঠিকাদারের লোকজন গাছ কেটেছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছে, “যারা প্রকৃতপক্ষে গাছ কেটেছে তাদের আড়াল করতেই আমাদের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।”
রামেবি জানিয়েছে, গণমাধ্যমে বলা হলেও গাছের সংখ্যা ৭০০ নয়; ১৮০টি। শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। পরদিন রোববার গঠিত হয় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি।
কমিটির প্রধান রামেবির কোষাধ্যক্ষ ডা. জাকির হোসেন খন্দকার। সদস্য হিসেবে রয়েছেন কলেজ পরিদর্শক আবদুস সালাম, রেজিস্ট্রার ডা. হাসিবুল হোসেন, পরিকল্পনা দপ্তরের সেকশন অফিসার রেজাউল উদ্দিন এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মোরশেদ। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে প্রভাবের আশঙ্কা প্রসঙ্গে উপপ্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সিরাজুম মুনীর বলেন, “যারা প্রাথমিক তদন্তে মত দিয়েছিলেন তারা কমিটিতে নেই। তাই প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই।”