
মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী, নড়াইল প্রতিনিধিঃ-
বাংলাদেশের কিংবদন্তিতুল্য হাওয়াইয়ান গিটারবাদক, সুরকার, স্বরলিপিকার ও সঙ্গীতগুরু এনামুল কবীর ৮৫ বছরে পদার্পণ করেছেন। ১৯৪২ সালের ৫ জুলাই নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার ডুমুরিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশের সঙ্গীতাঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন।
বাংলাদেশে হাওয়াইয়ান গিটারকে জনপ্রিয় করে তোলা এবং অসংখ্য গিটারশিল্পী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনামুল কবীরের অবদান অনন্য। শৈশবে তিনি একজন দক্ষ বাঁশিবাদক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীতে গিটারকে জীবনের প্রধান সাধনা হিসেবে বেছে নিয়ে এ যন্ত্রে অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেন। একসময় তিনি তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনের নিয়মিত গিটারবাদক হিসেবেও সুনাম অর্জন করেন।
তিনি একাধারে কণ্ঠশিল্পী, সুরকার, স্বরলিপিকার ও গ্রন্থপ্রণেতা। সঙ্গীতের বিভিন্ন ধারায় তাঁর ৪০টিরও বেশি গিটার অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ১৭টি সঙ্গীত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণভিত্তিক ‘সেরা ১১০ ভাষণ’ অ্যালবামে তাঁর সুর আবহসঙ্গীত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে সংসদ টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরেও তাঁর সুর ব্যবহৃত হচ্ছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর রচিত দেশাত্মবোধক গান মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিল। সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশ-বিদেশে বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ২০২২ সালে কানাডার অন্টারিও পার্লামেন্ট তাঁকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে। বর্তমানে তিনি কানাডায় বসবাস করছেন।
এনামুল কবীর বাংলাদেশ গিটারিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর কন্যা নাহিদা কবীর একজন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী এবং বর্তমানে কানাডার টরন্টোয় বসবাস করছেন। বাবা-মেয়ে একসঙ্গে বিভিন্ন সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বাংলা সঙ্গীতকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরছেন।
তিনি নড়াইলের বরেণ্য রাজনীতিবিদ মরহুম এনায়েত কবির চঞ্চলের গর্বিত পিতা। গিটারের সুরে দেশ-বিদেশে সমাদৃত এই গুণী শিল্পী আজও সঙ্গীতচর্চায় সক্রিয় রয়েছেন।