
মোমিন ইসলাম সরকার দেবীগঞ্জ,পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ-
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ রাজু (৩০) নামে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে কারাগারের ভেতরে শৌচাগারে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কারা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
নিহত রাজু দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা আয়নাল হকের ছেলে। তিনি একটি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ বন্দি ছিলেন।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে কারাগারের শৌচাগারের ভেতরে দরজার পাইপের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন রাজু। বিষয়টি কারারক্ষীদের নজরে এলে তাঁরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর অবস্থায় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা আক্তার জানান, শৌচাগারের ভেতরে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় রাজুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তবে কী কারণে তিনি এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
এদিকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানা জানান, কারা কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকালে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরবর্তী সময়ে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হবে।
ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
এদিকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় রাজুর মৃত্যুর সংবাদ নিজ গ্রাম ভাউলাগঞ্জে পৌঁছালে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা।