1. admin@protidinercrime.com : admin :
  2. protidinercrime@gmail.com : প্রতিদিনের ক্রাইম ডেস্ক : প্রতিদিনের ক্রাইম ডেস্ক
নড়াগাতী–কালিয়ায় নীরবে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকের হালের গরু, যন্ত্রের গর্জনে চাপা পড়ে গেছে গরুর ঘণ্টার শব্দ - Protidiner Crime - প্রতিদিনের ক্রাইম
[english_date]| [bangla_date]| [bangla_season]| [bangla_day]| [bangla_time]|
সংবাদ শিরোনামঃ
বিজিবি কর্তৃক রাজশাহীর সীমান্তে অভিযান,বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল আটক রামপালে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত: বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা ডাসারে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভায় ৫৫-তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত দেবীগঞ্জে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন: বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত,, গৌরনদীতে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন মাদক বিক্রিতে বাধা, চা দোকানিকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ; ছিনতাই ৫৮ হাজার টাকা গৌরনদীতে মুয়াল্লিমদের যৌথ উদ্যোগে, নুরানী সম্মেলন মাহফিল, আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল। মঞ্চে মুরুব্বিরা, পেছনে প্রার্থী—গৌরনদীতে ব্যতিক্রমী নজির গড়লেন কাফী তেরখাদা উপজেলায় মানবপাচার প্রতিরোধে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নড়াগাতী–কালিয়ায় নীরবে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকের হালের গরু, যন্ত্রের গর্জনে চাপা পড়ে গেছে গরুর ঘণ্টার শব্দ

প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২২২ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী,কালিয়া নড়াইলঃ-

ভোরের আলো ফোটার আগেই একসময় নড়াগাতী–কালিয়ার মাঠে নেমে পড়তেন কৃষকেরা। কাঁধে হাল, সঙ্গে দু’টি গরু—নির্বাক সঙ্গীর মতো পাশে দাঁড়িয়ে থাকত তারা। গরুর গলায় ঝোলানো ঘণ্টার টুংটাং শব্দে ঘুম ভাঙত গ্রামের। কাদামাটিতে হালের আঁচড়ে তৈরি হতো নতুন ফসলের আশা। সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না বললেই চলে।

কালের স্রোতে নড়াগাতীর মাঠে এসেছে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার। যন্ত্রের গর্জনে চাপা পড়ে গেছে গরুর ঘণ্টার শব্দ। আধুনিক কৃষিযন্ত্র জমি চাষকে করেছে দ্রুত ও সহজ, বাড়িয়েছে উৎপাদন। তবে এর আড়ালে নীরবে হারিয়ে যাচ্ছে শতাব্দীপ্রাচীন হালচাষ এবং কৃষকের সঙ্গে গরুর আত্মিক সম্পর্ক।

নড়াগাতীর বাগুডাঙ্গা গ্রামের কৃষক টুলু মোল্লা স্মৃতিচারণ করে বলেন, “হালের গরু শুধু চাষের উপকরণ ছিল না—ছিল পরিবারেরই একজন। গরুর যত্ন নেওয়া, তাদের সঙ্গে কথা বলা, মাঠে কাজের ফাঁকে আদর—এসবই ছিল আমাদের জীবনের অংশ।” তিনি জানান, এখন গরু নেই, সেই আবেগও নেই। অনেকেই গরু বিক্রি করে দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ পুরোপুরি কৃষিকাজ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।

একসময় গবাদিপশু পালনকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল গ্রামীণ অর্থনীতির একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ চক্র। গোবর থেকে তৈরি হতো জৈব সার ও জ্বালানি। কিন্তু যান্ত্রিক কৃষির প্রসারে সেই পরিবেশবান্ধব চর্চাও হারিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যে নিবিড় সম্পর্ক ছিল, তা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আধুনিক কৃষি নিঃসন্দেহে উন্নয়নের প্রতীক। তবে ঐতিহ্যবাহী কৃষিচর্চা ও গ্রামীণ সংস্কৃতি সংরক্ষণের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।নইলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আর কোনোদিন হালের গরু নিয়ে মাঠে নামা কৃষকের সেই চিরচেনা দৃশ্য দেখবে না।”নড়াগাতীর মাঠ আজও ফসল ফলায়, কিন্তু সেই মাঠে আর নেই গরুর পায়ের ছাপ। নেই কৃষকের সঙ্গে প্রকৃতির নীরব কথোপকথন। সময় বদলেছে, বদলেছে কৃষিও—তবু প্রশ্ন থেকে যায়, উন্নয়নের দৌড়ে আমরা কি আমাদের শিকড়কেই হারিয়ে ফেলছি?

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved ©2024 protidinercrime.com