
মোমিন ইসলাম সরকার, দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ-
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি বাবদ অবৈধভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো ধরনের পরীক্ষার ফি নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও উপজেলার অন্তত ১৪৩টি বিদ্যালয়ে এ অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এতে অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, সরকার যেখানে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিশ্চিত করতে কাজ করছে, সেখানে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন অর্থ আদায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
একাধিক অভিভাবক বলেন, “গরিব মানুষের সন্তানদের পড়াশোনা করাতেই কষ্ট হয়। তার ওপর পরীক্ষার ফি’র নামে টাকা আদায় অমানবিক। সরকার ফ্রি শিক্ষা দিলেও কিছু শিক্ষক সেটাকে ব্যবসায় পরিণত করেছেন।”
এ বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেন, বিদ্যালয়ের আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতেই এ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারি নীতিমালায় এ ধরনের অর্থ আদায়ের কোনো বৈধতা নেই বলে জানা গেছে।
লক্ষীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ধরিত্রী রানী রায় বলেন, “আমি সরাসরি কোনো টাকা নেইনি। অফিসের পিয়ন টাকা নিয়েছে। পরীক্ষার কাগজ কেনার জন্য টাকা নেওয়া হয়েছে।” অন্যদিকে ১১নং দামানী গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন প্রকাশ্যে স্বীকার করে বলেন,
“সমিতির সভাপতি-সম্পাদকসহ অন্যান্য সদস্যদের সিদ্ধান্তে সব স্কুলেই টাকা নেওয়া হচ্ছে। তাই আমরাও প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০ টাকা করে নিয়েছি।” ১১৮নং পশ্চিম শিকারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা বলেন, “সমিতির সিদ্ধান্তেই টাকা নেওয়া হয়েছে। এটা ভুল হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আজমল বলেন, “শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি আদায়ের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো পরীক্ষার ফি নেওয়া যাবে না। যারা টাকা নিয়েছে, দায়-দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় শুধু অনিয়মই নয়, এটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।