
মাগুরা প্রতিনিধিঃ- মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নে দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত এবং ১০টি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সব্দালপুর বাজার ও নোহাটা গ্রামের মধ্যে সব্দালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর হাফিজার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল মোল্যার ছেলে সাব্বির মোল্যার সমর্থিতদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি সারা দেশে রাজনৈতিক মামলার ধারাবাহিকতায় ঢাকার একটি মামলায় শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা দুলাল মোল্যার ছেলে সাব্বির মোল্যাকে আসামি করার ঘটনা নিয়ে নোহাটা ও সব্দালপুর গ্রামে দুপক্ষের সমর্থিতদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
তারই সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার দুপুরে উভয়পক্ষ বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় তারা ঢাল সড়কিসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে।
তবে দুপক্ষেই আ.লীগ ও বিএনপির নেতা কর্মীরা রয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের হাফিজার মোল্যা, মিলন শেখ,শফিকুল ইসলাম,টুটুল শেখসহ অন্তত ১৫ জন কমবেশি আহত হয়েছে। তাদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ১০টি বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি নেতা মীর হাফিজার বলেন, ঢাকায় সাব্বিরকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ওই ঘটনায় আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও তারা আমাদের দায়ী করে হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে চলা বিএনপি কর্মীরা জড়িত আছে।
হামলার বিষয়ে আওয়ামী লীগ কর্মী সাব্বিরের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও সব্দালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল আমিন বাবলু বলেন,আমি দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত।সামান্য তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা আ.লীগ নেতা আনিচুর রহমান কনক গ্রুপের সমর্থক এবং বিগত সময়ে আ.লীগের সঙ্গেচলা কিছু বিএনপির লোকজন একত্রিত হয়ে ঢাল, সড়কি,দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। একই সাথে যুবদল কর্মী প্রিন্সের বাড়ি এমনকি সব্দালপুর ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছাত্তার মাস্টারের বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে। পরে আমাদের লোকজন প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করতে ঝাপিয়ে পড়ে সেখানে সংঘর্ষ হয়।
শ্রীপুর থানার ওসি (তদন্ত) গৌতম ঠাকুর বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সেনা সদস্যরা টহল জোরদার করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।