
মোমিন ইসলাম সরকার, দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ-
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌর শহরের বাজার এলাকায় জেলা পরিষদের আওতাধীন হাটচান্দিনা দোকানের জমি দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিরোধের একপক্ষে রয়েছেন উপজেলা মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ. কে. ভূঁইয়া এবং অপরপক্ষে রয়েছেন পৌর শহরের কামাতপাড়া এলাকার বাসিন্দা, মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ আবু সুফিয়ান।
এ. কে. ভূঁইয়া পুরো ২০০ বর্গফুট জায়গার মালিকানা দাবি করলেও, সুফিয়ানের দাবি-তার দখলে থাকা ১০০ বর্গফুট জায়গার বৈধ কাগজপত্র ও নকশা রয়েছে।
কিছুদিন আগে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান আইনি জটিলতার কারণে বাজারের ওই দুটি দোকান সিলগালা করেন। পরে অভিযোগ রয়েছে, এ. কে. ভূঁইয়া ও তার ছেলে পারভেজ সিল করা তালা ভেঙে দোকানঘর নিজেদের দখলে নেন। দোকানের ভেতরে থাকা সুফিয়ানের চায়ের দোকানের মালামাল তারা নিজেদের হেফাজতে রাখেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬ ইং) বিকেল ৩টার দিকে আবু সুফিয়ান এবং তার ছোট ভাই শাহজাহান দোকান খুলতে গেলে এ. কে. ভূঁইয়া ও তার ছেলে পারভেজ বাধা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সুফিয়ান দোকানটি পুনরায় খোলার এবং পরিচালনার পরিকল্পনা করেন।
এদিকে, দোকানসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে এ. কে. ভূঁইয়া একটি অভিযোগ দায়ের করলে জেলা পরিষদ বিষয়টি তদন্তের জন্য দেবীগঞ্জ ভূমি অফিসকে দায়িত্ব দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে ওই দুটি দোকানের মালিক হিসেবে এ. কে. ভূঁইয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ওই দুটি দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপাতা বানিয়াপাড়া এলাকার হরি কিশোর রায়ের ছেলে সতীশ চন্দ্র রায় (দর্জি দোকান, ১০০ বর্গফুট) এবং মোঃ আবু সুফিয়ান (চায়ের দোকান, ১০০ বর্গফুট)।
২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পর এ. কে. ভূঁইয়া ও তাঁর ছেলে পারভেজ দোকান দুটি নিজেদের দাবি করে দখলে নেন-এমন অভিযোগ রয়েছে। ভূঁইয়ার দাবি, জেলা পরিষদের মাধ্যমে তিনি দুইটি দোকানের ১০০ বছরের লিজ পেয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার সুযোগে তাঁর সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা স্বদেশ চন্দ্র রায় ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে দোকান দুটি অন্যদের কাছে বিক্রি করেছেন।
এ ঘটনায় এ. কে. ভূঁইয়া সুফিয়ান এবং তার ছোট ভাই শাহজাহান ও সতীশের বিরুদ্ধে অবৈধ দখলের অভিযোগ এনে দেবীগঞ্জ থানায় জিডি নং-৫৫৫, তারিখ: ১১/০৮/২০২৫ দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে পঞ্চগড়ের বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেবীগঞ্জ পৌর বাজার এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।