মো. আশরাফ, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী লক্ষ্মীদশহরা মেলা এবারও বসেছে জমজমাট আয়োজনে। লক্ষ্মীপূজার দশহরা উপলক্ষে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ মেলায় আশপাশের গ্রাম-গঞ্জ থেকে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এ মেলাকে ঘিরে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। মেলায় শিশুদের বিনোদনের জন্য ছিল নাগরদোলা, দোলনা, খেলনা, বাঁশি, বেলুনসহ নানা আয়োজন। তবে মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল কাঠের ফার্নিচার, বিশেষ করে খাট-পালংয়ের পসরা।
মেলায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের মিষ্টি, পোশাক, গৃহস্থালি সামগ্রী, খাবার ও দেশীয় হস্তশিল্পের দোকান সাজিয়ে বসেন। দর্শনার্থীরা কেনাকাটার পাশাপাশি পরিবার-পরিজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটান। মেলায় মানুষের উপস্থিতির পাশাপাশি বেচাকেনাও ছিল ভালো।
বাজার মন্দির ও মেলা কমিটির সদস্য দিলীপ কুমার জানান, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গৈলা মাঠে এ মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। এটি শুধু ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিএনপির গৈলা ইউনিয়ন আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনায়েত খান (মনু) বলেন, গৈলাবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই। তাঁর কঠোর হস্তক্ষেপে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদ পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পেরেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
মেলার নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করায় উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্বিঘ্নে উৎসবের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
মেলায় দোকান বসানো এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিবছরই তিনি এ মেলায় দোকান নিয়ে বসেন। এখানে বেচাকেনা ভালো হয়, পাশাপাশি পুরোনো ক্রেতা ও পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ তৈরি হয়। তাঁর ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় এবার মেলায় মানুষের উপস্থিতি ও বিক্রি—দুটিই বেশি।
সব মিলিয়ে শতবর্ষের ঐতিহ্য ধারণ করে লক্ষ্মীদশহরা মেলা আজও আগৈলঝাড়ার সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে টিকে আছে। ধর্মীয় আবহ, গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক সম্প্রীতির মেলবন্ধনে গৈলার এ মেলা স্থানীয় মানুষের কাছে এখনো বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র।