
পলাশ তালুকদার, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ-
কিছুদিন আগেও বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় সোনালী ইরি ধানের ঢেউ খেলানো মাঠে যেন সুখের সুর বেজে উঠত। হেলে-দুলে থাকা ধানের শীষে ফুটে উঠত কৃষকের স্বপ্ন, তাদের হাসি আর ভবিষ্যতের আশার আলো। কিন্তু হঠাৎ প্রকৃতির বৈরী আচরণে সেই স্বপ্ন আজ পানির নিচে বন্দি।
অবিরাম বৃষ্টিতে উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে গেছে পানিতে। পাকা ধান কাটার আগেই জমিতে জমেছে জল, ফলে কৃষকের চোখে-মুখে এখন শুধু হতাশা আর দুশ্চিন্তা। কোথাও ধান কাটার মতো শ্রমিক নেই, আবার কোথাও বা কাটা ধান শুকানোর মতো জায়গার সংকট চরমে।
উঠান বা মাঠ না থাকায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে রাস্তার উপর ধান মাড়াই করছেন। তবুও স্বস্তি নেই—আবার বৃষ্টির পানিতে সেই ধান ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা। অনেক ক্ষেত্রেই পানিতে ডুবে থাকা ধানে পচন ধরছে, নষ্ট হচ্ছে কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম।
এ যেন এক করুণ বাস্তবতা—প্রকৃতির কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন গৌরনদীর কৃষকরা। চোখে ভাসে দুঃখের ছবি, আর অন্তরে জমে ওঠে দীর্ঘশ্বাস।কৃষকের কণ্ঠে আজ শুধু একটাই আর্তি— “হে মহান রাব্বুল আলামিন, তুমি যে রিজিক দিয়েছিলে, তা আবার তোমারই ইচ্ছায় কেড়ে নিলে। আমাদের এই ক্ষতি সহ্য করার তাওফিক দাও।”
গৌরনদীর মাঠে এখন আর সোনালী স্বপ্নের ঝংকার নেই, আছে শুধু বেদনার নীরবতা—আর সেই নীরবতার মাঝেই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে কৃষকের দীর্ঘশ্বাস।