
মোঃ হেমায়েত হোসেন খান, নিউজ ডেস্ক মাদারীপুরঃ-
মাদারীপুরে প্রসাশনকে তোয়াক্কা না করে পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে ৫৭ টি অবৈধ ইটভাটা”পোড়ানো হচ্ছে কাঠ,গিলে খাচ্ছে শতশত একর ফসলী জমি। মাদারীপুরের পাঁচ টি উপজেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই দীর্ঘ কয়েক বছর থেকেই চালানো হচ্ছে অবৈধ ইটভাটা, পোড়ানো হচ্ছে বনের কাঠ,কাঁটা হচ্ছে শতশত বিঘা ফসলী জমি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,হাতে গোনা কয়েকটি ইটভাটার মালিক পরিবেশ অধিদপ্তরে ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করলেও দেওয়া হয়নি কোনো অনুমোদন। পরিবেশের কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে-আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ ইটভাটা,ভাটার মধ্যেই বসানো হয়েছে,ইটভাটায় করা হয়েছে করাত কল, পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। এসব ইটভাটায় শতশত বিঘা কৃষি জমি দখল করে গড়ে উঠেছে ৫৭ টি অবৈধ ইটভাটা। এতে করে পরিবেশের ক্ষতিগ্রস্তের ঝুঁকির মুখে পরেছে জনস্বাস্থ্য এবং কমে যাচ্ছে ফসলি জমি।
সরোজমিন ঘুরে জানা যায়,মাদারীপুর জেলার ৫৭ টি ইটভাটা রয়েছে। যাঁর মধ্যে শিবচরে ১টি ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের বৈধ ছাড়পত্র রয়েছে। বাকি ৫৬ টি ইটভাটা অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে।এছাড়া,ইটভাটা গুলোর লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় নবায়নের জন্য মাদারীপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরে হাতেগোনা কয়েকটি আবেদন করেছেন। সেগুলো হলো জেলার শিবচর উপজেলার বাশকান্দি ইউনিয়নের বরহামগঞ্জ যাদুয়ারচর এলাকার জুয়েল খালাসীর,মেসার্স পিবিএফ ব্রিকস, শিবচর উপজেলার কাঠালবাড়ী ইউনিয়নের কাঠালবাড়ী এলাকার মো.ইকবাল হোসেন শাহিনের মেসার্স জননী ব্রিকস, মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের আরিফুর রহমান মোল্লার মেসার্স মোল্লা ব্রিকস। এই অবৈধ ভাটার মালিকরা কোনো আইনি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনেকে ইটভাটার ভেতরে অবৈধ ভাবে করাতকল বসিয়ে কাঠ কেটে তা পোড়াচ্ছে। ফলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, বিলীন হচ্ছে গাছ পালা। তাছাড়া কৃষি জমি থেকে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে, আবার রাতের আধারে নদ-নদীর পাড় থেকে কৃষি জমির মাটি কাটায় ভাঙন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সরকারি অনুমোদন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে এসব ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসায় ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া, গ্যাস ও ধুলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন। তাছাড়া এসব ইটভাটার বেশির ভাগই স্থাপনা করা হচ্ছে ফসলি জমিতে। মাদারীপুর সদর উপজেলার পাচখোলা ইউনিয়নে রয়েছে ৩৫ টিরও বেশি ইটভাটা।
পাচখোলা ইউনিয়নের বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, শুধুমাত্র আমাদের এই পাচখোলা ইউনিয়নে রয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টির মতো ইটভাটা। আগে ৩৫ টি ছিল। এখন বেশ কয়েকটি বন্ধ হয়ে গেছে। শুধুমাত্র একটি ইউনিয়নে এতগুলো ইটভাটা কিভাবে থাকে, তা সত্যিই বোধগম্য নয়। এতে করে এই এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি, পরিবেশ ও কৃষি জমি বিলুপ্তির পথে। এগুলোর ব্যাপারে সঠিক আইন প্রয়োগ করা বিশেষ প্রয়োজন।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। ইতিমধ্যে আমরা ২টি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা করেছি। ছাড়পত্র বিহীন বাকি ইটভাটা গুলোতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের সাথে সমান্নয় করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।