
মোমিন ইসলাম সরকার, দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ-
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় রবি মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ভুট্টা জাত CIS-৩৩৫৫ ও CIS-৯৪২৪ নিয়ে বর্ণাঢ্য মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান সার্কেল সীডের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
রবিবার (১০ মে) রাত ৮টায় দেবীগঞ্জ উপজেলার ৩ নং সদর ইউনিয়নের পূর্ব দেবীডুবা বারঘরিয়া পাড়া সেরাজুল মেম্বারের মোড় বাজারে মাঠ দিবসটি অনুষ্ঠিত হয়। সার্কেল সীড কোম্পানির অংশীদার ও রংপুর বিভাগীয় ডিপো মোঃ বাকী বিল্লাহ আল আশরাফ এবং দেবীগঞ্জ উপজেলার ব্যবসায়ী হামিদুল-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সার্কেল সীডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শাহ আলম।
মাঠ দিবসে কৃষকদের সঙ্গে ভুট্টার ফলন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। কৃষকরা জানান, CIS-৩৩৫৫ ও CIS-৯৪২৪ জাতের ভুট্টা বিঘাপ্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ মণ পর্যন্ত ফলন দিয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ব্যবসায়ী হামিদুলের মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কৃষক প্রায় তিন হাজার কেজি সার্কেল সীডের ভুট্টার বীজ আবাদ করেছেন। ভালো ফলন পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ দেখা গেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ কৃষকের আর্থিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও কৃষকদের পাশে থেকে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উন্নতমানের বীজ সরবরাহ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন আয়োজকরা।
মাঠ দিবসে উপস্থিত কৃষকরা ভবিষ্যতেও সার্কেল সীডের ভুট্টা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার দাবি জানান।
সার্কেল সীড প্রতিষ্ঠান গত প্রায় সাত বছর ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের এ দুই জাতের ভুট্টার বীজ পৌঁছে দিয়ে সফলভাবে মাঠপর্যায়ে চাষাবাদে সহযোগিতা করে আসছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি শুধু বীজ সরবরাহই নয়, বরং কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং দ্বিগুণ ফলন নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করছে। কৃষির উন্নয়নে তাদের এই নিরলস প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়।
সার্কেল সীড মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রায় এক শতাধিক কৃষক বলেন, চলতি মৌসুমে ভুট্টার দাম ভালো রয়েছে। এই দাম অব্যাহত থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন। ব্যাপক ফলনশীল এ অঞ্চলে প্রতি মণ ভুট্টা ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে তারা জানান।
এই অঞ্চলে প্রতি বিঘা জমিতে ভুট্টার বীজ প্রয়োজন হয় প্রায় ২ থেকে আড়াই কেজি। কৃষকদের ভাষ্য, তারা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ভুট্টার বীজ ৭৫০ টাকা দরে কিনেছেন। এতে প্রতি বিঘায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মোট খরচ পড়ছে প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। তবে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় কৃষকের লাভ হচ্ছে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা।
দেবীগঞ্জ বাজারের বীজ ব্যবসায়ী রায়হান বীজভান্ডারের প্রোপ্রাইটর মোঃ মনোয়ার হোসেন বলেন, সার্কেল সীডের ভুট্টা বীজ বিক্রি করে কৃষকদের কাছ থেকে তেমন কোনো অভিযোগ পাইনি। বরং এই বীজ ব্যবহার করে কৃষকরা ব্যাপক ফলন পেয়েছেন এবং লাভবান হয়েছেন।
ভবিষ্যতেও আমি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চাই। তিনি আরও জানান, এই প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি প্রায় ৫০০ কেজি ভুট্টা বীজ ক্রয় করেছেন এবং প্রায় ২০০ জন কৃষকের মধ্যে তা সরবরাহ করেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো কৃষকের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।